Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ফ্রান্সে অভিবাসী নারীদের শোচনীয় জীবন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৩

ফ্রান্সে অভিবাসী নারীদের শোচনীয় জীবন

উত্তর ফ্রান্সের অভিবাসী শিবিরে নারীদের জীবনযাপন মানবিক সংকটের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের পরও তাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। শিবিরে নারীদের জীবনযাপন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা সলিডারিটিস ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসব শিবিরে বসবাসরত নারীরা প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং মৌলিক পরিষেবার অভাবে ভুগছেন। এনজিওর মুখপাত্র পলিন প্রুভোস্ট-চাপেক বলেন, অভিবাসী নারীরা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন এবং দ্বিগুণ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন- একদিকে অভিবাসী হওয়ার কারণে, অন্যদিকে নারী হওয়ার কারণে।  

৫ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মৌলিক অধিকার যেমন স্বাস্থ্য, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পানির অধিকার প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে ঋতুস্রাবের সময় নারীরা ভয়াবহ সমস্যায় পড়েন। স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন কেনা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই কাপড় ব্যবহার করেন, আবার কেউ কেউ কোনো কিছুই ব্যবহার করতে পারেন না। কেউ কেউ একই স্যানিটারি পণ্য কয়েক দিন ধরে ব্যবহার করতে বাধ্য হন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।  

ডানকার্ক অঞ্চলে কিছু সংস্থা আইনি পদক্ষেপের পর গোসলখানা ও শৌচাগার স্থাপন করেছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কালেতে পানির উৎসের গড় দূরত্ব ১.৩৯ কিলোমিটার হওয়ায় নারীদের প্রায় ২০ মিনিট হাঁটতে হয়। এতে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে একা শৌচাগারে যেতে ভয় পান। ফলে তারা অনেক সময় পানি পান করা বা শৌচাগারে যাওয়া থেকেও বিরত থাকেন।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারাপ স্বাস্থ্যবিধি নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সংক্রমণ, টক্সিক শক সিনড্রোমের ঝুঁকি ছাড়াও ঋতুস্রাবের দাগের কারণে সম্মানহানি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। অনেক নারী অতীতে সহিংসতার শিকার হলেও কোনো মানসিক সহায়তা পান না। পরিবার নিয়ে থাকা নারীরা নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন।  

এনজিওর মতে, শিবিরগুলো বারবার উচ্ছেদ করার ফলে নারীরা আরো অসহায় হয়ে পড়েন। উচ্ছেদের পর তারা কখনো অচেনা পুরুষের সঙ্গে তাঁবু ভাগ করে নিতে বাধ্য হন, যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।  

পলিন প্রুভোস্ট-চাপেক বলেন, অভিবাসী নারীদের জীবনযাপন উন্নত করতে জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো বাড়াতে হবে। নিরাপদ ও লিঙ্গভিত্তিক আলাদা শৌচাগার, পর্যাপ্ত গোসলখানা, সহজে পাওয়া যায় এমন পানির উৎস এবং ঋতুস্রাবজনিত স্বাস্থ্যবিধি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

Logo