Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ফ্রান্সে মানব পাচারের অভিযোগে ভুয়া নাবিক চক্র ধরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪২

ফ্রান্সে মানব পাচারের অভিযোগে ভুয়া নাবিক চক্র ধরা

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের সেত বন্দরে অভিবাসী পাচারে জড়িত একটি অভিনব চক্র ভেঙে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। এই চক্রটি অভিবাসীদের জাহাজের ক্রু সদস্য বা নাবিক সাজিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করত। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিদি লিব জানিয়েছে, লিবিয়া, সিরিয়া ও ফ্রান্সকে ঘিরে পরিচালিত এই নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।  

তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারীরা অভিবাসীদের নীল রঙের নাবিকের পোশাক পরিয়ে হাতে ভুয়া পরিচয়পত্র দিত। এরপর তাদের পশুবাহী জাহাজে তুলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করানো হতো। গত দুই বছরে অন্তত ২০ জন অভিবাসী এভাবে ফ্রান্স ও জার্মানিতে পৌঁছেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যেককে এই পথে আসতে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ দিতে হয়েছে।  

ফ্রান্সের অভিবাসী পাচারবিরোধী সংস্থা ওল্টিম গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই চক্রটি ভেঙে দেয়। তবে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে যখন চক্রটির এক সদস্যকে দক্ষিণ ফ্রান্সের মোপলিয়ে শহরের আপিল আদালতে তোলা হয়। সিরীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্যক্তি প্রায় এক দশক ধরে সেত শহরে বসবাস করছিলেন এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ মেরামতের ব্যবসা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অভিবাসীদের জাহাজ থেকে নামানো ও ফ্রান্সে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেন এবং কিছু যাত্রার অর্থায়নও করেছিলেন।  

রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করেছে এবং ১৭ মার্চ আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি মূলত নিজের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য এই কাজ করেছেন। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, পাচার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সিরিয়ায় একটি শ্যালেট, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কিনেছেন।  

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিবাসীদের কথোপকথনে পাচারকারীরা তাদের ‘পাখি’ বলে উল্লেখ করত। এছাড়া এই নেটওয়ার্ক মাদক পাচারের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হেরো ডিপার্টমেন্টের ভিক-লা-গার্দিওল এলাকায় জমির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদক পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  

এই চক্রে ব্যবহৃত পশুবাহী কার্গো জাহাজ ‘আনাকিন’কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি আর কোনো ইউরোপীয় বন্দরে ভিড়তে পারবে না।  

এদিকে একই সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে পরিচালিত আরেক অভিযানে তুরস্ক থেকে বলকান রুট হয়ে জার্মানিতে অভিবাসী পাচারকারী একটি বড় চক্রও ভেঙে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই অভিযানে দক্ষিণ-পূর্ব বলকান রুটের অন্যতম সক্রিয় মানবপাচারকারী সংগঠনকে বড় ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Logo