ব্রিটেনের দক্ষিণ লন্ডনে অভিবাসীদের একটি চক্রকে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১২ মার্চ ভোরে পরিচালিত অভিযানে একটি ক্যারাভান সাইট থেকে ৯ জন নারী ও ৯ জন পুরুষকে আটক করা হয়। তারা ব্রাজিল, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক।
তদন্তে জানা গেছে, এই অভিবাসীরা বৈধ ডেলিভারি ড্রাইভারদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাদের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন। অর্থাৎ বৈধ ড্রাইভারদের আইডি দিয়ে তারা কাজ করছিলেন, অথচ তাদের যুক্তরাজ্যে কাজ করার অনুমতি ছিল না।
গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে আটজনকে ইতোমধ্যে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তুতি চলছে। বাকি ১০ জনকে ইমিগ্রেশন জামিনে রাখা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।
ব্রিটিশ সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস বলেছেন, অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, গত ১৮ মাসে অভিবাসীদের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তার ভাষায়, “আমার বার্তা পরিষ্কার, অবৈধ কর্মীরা দ্রুত গ্রেপ্তার, আটক এবং বহিষ্কৃত হবেন।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০টি অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বার্বারশপ, কার ওয়াশ, নেইল বার ও টেকঅ্যাওয়ে দোকানেও অভিযান হয়েছে। আগের সময়ের তুলনায় এটি ৭৭ শতাংশ বেশি। এসব অভিযানে ১২ হাজার ৩০০ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি।
নতুন সীমান্ত নিরাপত্তা, আশ্রয় ও অভিবাসন আইন অনুযায়ী এখন থেকে গিগ ইকোনমি বা জিরো-আওয়ার কন্ট্রাক্টে নিয়োগ দেওয়া কোম্পানিগুলোকে কর্মীদের বৈধতা যাচাই করতে হবে। যারা তা করবে না, তাদের সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা, পরিচালক পদে অযোগ্য ঘোষণা কিংবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টর কেলি গ্রিফিথস বলেন, “এই অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে অবৈধভাবে কাজ করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। আমরা দিনরাত কাজ করছি, যাতে অভিবাসন আইন যথাযথভাবে কার্যকর হয়।”
logo-1-1740906910.png)