স্পেন সরকার ঘোষণা করেছে, অন্তত পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ চালু করা হবে। এই সিদ্ধান্তে অভিবাসীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
পেরুর নাগরিক ডায়ানা দুই বছর আগে ইউরোপে আসেন। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি পর্যটন খাতে কাজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। মাঝে মাঝে ছোটখাটো কাজ করে দিন কাটাতে হয়েছে। তিনি বলেন, “কাগজপত্র ছাড়া কাজ করলে মালিকরা প্রতারণা করে। কখনো কম টাকা দেয়, কখনো চুক্তি ভঙ্গ করে। এতে জীবন কঠিন হয়ে যায়।”
সরকারের নতুন উদ্যোগে অভিবাসীরা এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সি ভিসা পাবেন। আবেদন করা যাবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। শর্ত হলো, আবেদনকারীকে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে থাকতে হবে এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এই সুযোগ নেবেন। তবে পুলিশের অভিবাসন কেন্দ্রের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা ৭.৫ লাখ থেকে ১১ লাখ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, অভিবাসীরা দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই উদ্যোগকে বাস্তবসম্মত মনে করছে সরকার। স্পেনের বেকারত্ব এখন ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, আর গত বছর অর্থনীতি প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্তর্ভুক্তি ও অভিবাসনমন্ত্রী এলমা সাঈজ বলেন, “২০২২ সাল থেকে স্পেনের অর্ধেক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এসেছে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান থেকে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন দশকে স্পেনের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে প্রায় ২.৫ কোটি অভিবাসীর প্রয়োজন হবে। বর্তমানে কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বৃদ্ধসেবা খাতে অভিবাসীদের বড় ভূমিকা রয়েছে।
কৃষক সংগঠন আসাজা জানিয়েছে, তারা এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে। তবে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দিয়ে কৃষি খাতে কাজে লাগানো জরুরি। ব্যবসায়ী সংগঠন সিইওইও বলেছে, সুশৃঙ্খল অভিবাসন দেশের জন্য ভালো।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও চলছে। কনজারভেটিভ পিপলস পার্টি বলেছে, “এটি অভিবাসন নীতির ব্যর্থতার প্রমাণ।” তাদের মতে, আবেদনকারীর সংখ্যা এক মিলিয়নের কাছাকাছি হবে। ডানপন্থি ভক্স দল দাবি করেছে, এই বৈধকরণ আরো অভিবাসীকে আকৃষ্ট করবে এবং স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তায় চাপ বাড়াবে।
সরকার বলছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বৈধকরণ হওয়ায় কোনো “পুল ইফেক্ট” তৈরি হবে না। অতীতে বাম ও ডান উভয় সরকারই একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০০০ সালে পিপলস পার্টি এবং ২০০৫ সালে সোশ্যালিস্ট সরকার প্রায় ছয় লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিয়েছিল।
ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন অভিবাসন কঠোর করছে, তখন স্পেনের এই পদক্ষেপকে সাহসী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, বৈধ অভিবাসীরা যেন অন্য দেশে গিয়ে অবৈধভাবে না থাকেন।
logo-1-1740906910.png)