লিসবন, মাদ্রিদ ও রোম; এই তিন শহরই প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য স্পষ্ট। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জরিপ ও র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্পেন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।
ইন্টারন্যাশনসের ২০২৪ সালের জরিপে স্পেন ইউরোপের শীর্ষ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া, মালাগা ও আলিকান্তে প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সেরা শহর হিসেবে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পর্তুগালও ভালো অবস্থানে আছে; লিসবন ও পোর্তো নিয়মিতভাবে শীর্ষ তালিকায় থাকে, তবে স্পেনের মতো নয়। ইতালি বরাবরই নিচের দিকে থাকে, বিশেষ করে চাকরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে।
জীবনমানের দিক থেকে স্পেন এগিয়ে। নিরাপত্তা, পরিবেশ, অবসর সুযোগ, গণপরিবহন ও কাজের ভারসাম্যে স্পেনকে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। পর্তুগালও নিরাপত্তা, প্রকৃতি ও আবহাওয়ার কারণে উচ্চ নম্বর পেয়েছে। তবে চাকরির বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা পিছিয়ে। ইতালি সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক শহরের জন্য আকর্ষণীয় হলেও চাকরি, বেতন ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রবাসীদের অসন্তুষ্টি বেশি।
সমাজে মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্পেন ও পর্তুগালকে প্রবাসীরা সবচেয়ে স্বাগতপূর্ণ দেশ হিসেবে দেখছেন। পর্তুগালে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বেশি হওয়ায় নতুনদের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ। স্পেনে সামাজিক জীবন সক্রিয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্প্যানিশ ভাষা শেখা জরুরি। ইতালিতে ভাষাগত বাধা সবচেয়ে বড় সমস্যা, ইতালীয় ভাষা না জানলে প্রশাসনিক কাজ ও সামাজিক মেলামেশা কঠিন হয়ে যায়।
কাজ ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে স্পেন সবচেয়ে ভালো অবস্থানে। কাজের সময় ও অবসর সুযোগে প্রবাসীরা সন্তুষ্ট। পর্তুগালে জীবনমান ভালো হলেও বেতন ও ক্যারিয়ার সুযোগ সীমিত। ইতালিতে চাকরি ও বেতনের সুযোগ সবচেয়ে কম, ফলে স্থানীয় চাকরির ওপর নির্ভরশীল প্রবাসীদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, স্পেন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দেশ; জীবনমান, কাজের সুযোগ ও সামাজিক পরিবেশ সব দিকেই এগিয়ে। পর্তুগাল নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন খুঁজছেন এমনদের জন্য আদর্শ, বিশেষ করে যারা দূর থেকে কাজ করেন বা অবসর জীবন চান। ইতালি মূলত জীবনধারা ও সংস্কৃতির জন্য আকর্ষণীয়, তবে চাকরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রবাসীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বেশি।
logo-1-1740906910.png)