যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে নানা কৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে চীন ও রাশিয়া। যদিও দুই দেশ প্রকাশ্যে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরানকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে সহায়তা করছে তারা।
চীন ইরানের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কিনছে। ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে বেইজিং। এছাড়া ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে, যেখানে চীন ইরানে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের ডালিয়ান ও ঝৌশান বন্দরে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল মজুত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ইরানের বিক্ষোভ দমনে চীনের সরবরাহ করা নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়া ইরানকে উন্নত সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানকে মার্কিন সামরিক স্থাপনার অবস্থান জানাচ্ছে। এর ফলে ইরান নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে পারছে। কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাকে এ সহায়তার ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “বন্ধুরা আমাদের রাজনৈতিক ও অন্যান্যভাবে সহায়তা করছে।” সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয়, অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
গবেষকরা বলছেন, ইরানের পাল্টা হামলায় এখন অনেক বেশি পরিপক্বতা দেখা যাচ্ছে। তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হচ্ছে। রাশিয়ার মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে পাওয়া তথ্য ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা এখন ইরানকে সহায়তায় কাজে লাগছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়ার অন্যতম সমর্থক ছিল। এবার রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে, যা প্রক্সি যুদ্ধের সমীকরণকে আরো জটিল করে তুলছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে, যা প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরো গভীর করেছে।
logo-1-1740906910.png)