Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধ এক সপ্তাহে: ট্রাম্পের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০১

ইরান যুদ্ধ এক সপ্তাহে: ট্রাম্পের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

ছবি - এআই দিয়ে বানানো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও যুদ্ধ দ্রুত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ বলছে, সামরিক সাফল্য অর্জিত হলেও তা স্পষ্ট কোনো ভূরাজনৈতিক বিজয়ে রূপ নেবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  

ট্রাম্প এর আগে সীমিত ও দ্রুত সামরিক অভিযানের পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার “অপারেশন এপিক ফিউরি” যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো লক্ষ্য বা শেষপরিণতি তুলে ধরতে পারছেন না। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, নৌবাহিনী দুর্বল করা, প্রক্সি বাহিনীকে নিরস্ত্র করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য।  

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে, আর ভোটাররা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন।  

রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী জনমত বাড়লে কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। যদিও ট্রাম্পের সমর্থক “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন” আন্দোলনের বড় অংশ এখনো তাকে সমর্থন করছে, তবে বিভক্তি দেখা দিলে তা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।   

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। কখনো তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন, আবার কখনো তা এড়িয়ে যান। একদিন তিনি বলেন, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে ভূমিকা রাখবেন, পরদিন সামাজিক মাধ্যমে ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেন। এ ধরনের মিশ্র বার্তা যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।   

এদিকে ইরান প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা এখনো কম হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হতাহতের সংখ্যা বাড়লে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ তৈরি হবে।  

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আগের অভিযান দ্রুত সফল হয়েছিল। কিন্তু ইরান অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। খামেনি নিহত হলেও ইরান সামরিক প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আরো কঠোর নেতৃত্ব আসবে কিনা।  

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এখান দিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় তেল পরিবহন বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দল এ ঝুঁকি পুরোপুরি অনুমান করতে পারেনি।  

যুদ্ধ কতদিন চলবে তা এখনো অজানা। ট্রাম্প বলেছেন, চার-পাঁচ সপ্তাহ বা যতদিন প্রয়োজন ততদিন অভিযান চলবে। তবে এর পরিণতি কী হবে তা স্পষ্ট নয়। সামরিক কৌশল সফল হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

Logo