Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরলে পাবেন ১০ হাজার পাউন্ড

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরলে পাবেন ১০ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলে পাবেন ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড এবং পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত আশ্রয় আবাসনের ব্যয় কমাতে এই পাইলট প্রকল্প চালু করেছে দেশটির সরকার। ৫ মার্চ লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫০টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, পরিকল্পনাটি সফল হলে বছরে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে শাবানা মাহমুদ বলেন, তিন সদস্যের একটি পরিবারকে রাখতে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড খরচ হয়। সেই তুলনায় এককালীন আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে তাদের দেশে ফেরানো করদাতাদের জন্য সাশ্রয়ী হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে ৮২ হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়। একই বছরে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশিরাও আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম বড় অংশ।

বর্তমানে দেশে ফেরার কর্মসূচিতে একজন আশ্রয়প্রার্থী সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পান। নতুন পরিকল্পনায় সেই অর্থ কয়েক গুণ বাড়ছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে বলছে, এ ধরনের অর্থ প্রদান মানুষকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসতে উৎসাহিত করতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেছেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অর্থ দেওয়া করদাতাদের প্রতি অপমান।

অন্যদিকে সরকার মনে করছে, মানব পাচারকারীরা একজন অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আনতে ১৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেয়। ফলে শুধু অর্থ পাওয়ার আশায় কেউ অবৈধভাবে আসবেন, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনস কনসোর্টিয়াম বলেছে, পরিবারগুলোকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হবে, অথচ আইনি পরামর্শ নেওয়ার মতো সময় থাকবে না। এতে শিশুদের গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ইমিগ্রেশন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেছেন, নতুন নীতি মূলত ব্যয় কমানো ও দ্রুত প্রত্যাবাসন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ দিয়ে মানুষকে দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করা নৈতিক ও মানবিক প্রশ্নও তৈরি করে। বিশেষ করে শিশুসহ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের নীতি মানবাধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

Logo