Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

সম্পত্তি কিনলেই যে ১৪টি দেশে মেলে নাগরিকত্ব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২২

সম্পত্তি কিনলেই যে ১৪টি দেশে মেলে নাগরিকত্ব

বর্তমানের অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী চলাচলের স্বাধীনতা, উন্নত জীবনযাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য অনেক বিনিয়োগকারী দ্বিতীয় একটি দেশের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন। সাধারণত চাকরি বা পারিবারিক সূত্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হলেও বিশ্বের বেশ কিছু দেশ সরাসরি রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তি বিনিয়োগের বিনিময়ে এই সুযোগ দিচ্ছে। এভিয়েশন বিষয়ক ম্যাগাজিন এভিয়েশন এ টু জেড ৪ মার্চ ২০২৬-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১৪টি দেশের তালিকা করেছে, যেখানে সম্পত্তি কেনা হতে পারে আপনার বিদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ পথ।

১. তুরস্ক 

তুরস্কে অন্তত ৪ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তি কিনলে সরাসরি নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। শর্ত হলো, এই সম্পত্তি অন্তত তিন বছর নিজের মালিকানায় রাখতে হবে। এটি বর্তমানে বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রোগ্রাম।

২. ডোমিনিকা 

ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে সরকার অনুমোদিত আবাসন প্রকল্পে ন্যূনতম ২ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করলে নাগরিকত্ব মেলে। এক্ষেত্রে সম্পত্তিটি তিন বছর ধরে রাখতে হয়।

৩. সেন্ট কিটস ও নেভিস

এখানে অনুমোদিত প্রকল্পে কমপক্ষে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। তবে বিনিয়োগকারীকে সাত বছর পর্যন্ত সম্পত্তির মালিকানা বজায় রাখতে হয়।

৪. অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা 

ক্যারাবিয়ান এ দেশটিতে ৩ লক্ষ ডলার বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। শর্ত হলো, প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচ দিন ওই দেশে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।

৫. গ্রেনাডা 

গ্রেনাডায় অনুমোদিত প্রকল্পে ২ লক্ষ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ এবং সরকারি ফি প্রদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। এই সম্পত্তি অন্তত পাঁচ বছর মালিকানায় রাখা বাধ্যতামূলক।

৬. সেন্ট লুসিয়া 

ন্যূনতম ৩ লক্ষ ডলার মূল্যের সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে ক্যারাবিয়ান এ দেশের নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। এখানেও পাঁচ বছর সম্পত্তি ধরে রাখার নিয়ম রয়েছে।

৭. গ্রিস 

গ্রিসে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের সম্পত্তি কিনলে পাঁচ বছরের নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া যায়। টানা সাত বছর সেখানে বসবাস করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

৮. ব্রাজিল 

নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ডলার মূল্যের সম্পত্তি কিনলে ব্রাজিল স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে ভাষা ও বসবাসের শর্ত পূরণ করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়।

৯. অ্যাঙ্গুইলা 

এ দেশটিরও অবস্থান ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। যদিও দেশটি বৃটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন। এখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য অন্তত ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার মূল্যের সম্পত্তি কিনতে হয় এবং তা পাঁচ বছর ধরে রাখতে হয়।

১০. কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ 

আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দেশটির অবস্থান কিউবার দক্ষিণে। আজীবন স্থায়ী বসবাসের জন্য এখানে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ প্রয়োজন। এটি মূলত উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য।

১১. কুরাসাও 

ভেনেজুয়েলার উত্তরে অবস্থিত এই দ্বীপ রাষ্ট্রে ২ লক্ষ ৮০ হাজার ডলার থেকে বিনিয়োগ শুরু করে নবায়নযোগ্য রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়া যায়। বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লে স্থায়ী পারমিটের সুযোগও বাড়ে।

১২. সাইপ্রাস 

সাইপ্রাসে স্থায়ী বসবাসের জন্য ৩ লক্ষ ইউরো মূল্যের সম্পত্তি কেনা প্রয়োজন। সাত বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি হয়।

১৩. টার্কস ও কাইকোস 

ক্যারিবিয়ান সাগরের এই দেশটিতে ৩ লক্ষ ডলার বিনিয়োগে স্থায়ী বসবাসের সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তবে জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।

১৪. অ্যান্ডোরা

ইউরোপের এই দেশটিতে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ইউরো বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময় সশরীরে বসবাসের শর্তে রেসিডেন্সি পাওয়া যায়। ১০ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

সতর্কতা: এই ধরনের প্রোগ্রামে বড় অঙ্কের আর্থিক ঝুঁকি ও কর সংক্রান্ত জটিলতা থাকে। এছাড়া দেশগুলোর নীতি যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ বা আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Logo