যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান থেকে আর কোনো স্টাডি ভিসা ইস্যু করা হবে না। একই সঙ্গে আফগান নাগরিকদের জন্য দক্ষ কর্মী ভিসাও বন্ধ করা হচ্ছে। বিবিসি নিউজ বলছে, ভিসা অপব্যবহার রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা স্টাডি ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তী সময়ে আশ্রয় প্রার্থনা করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এ ধরনের আশ্রয় আবেদন তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে স্টাডি ভিসা থেকে আশ্রয় আবেদনকারীরা মোট দাবির প্রায় ১৩ শতাংশ।
সরকার জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে আসা প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভিসা শেষে আশ্রয় আবেদন করেছেন। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের আবেদন ১৬ গুণ বেড়েছে, আর ক্যামেরুন ও সুদানের শিক্ষার্থীদের আবেদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা "অসহনীয় চাপের মুখে" পড়েছে বলে হোম অফিস মন্তব্য করেছে।
শাবানা মাহমুদ বলেছেন, "আমাদের উদারতা যারা অপব্যবহার করছে, তাদের জন্য ভিসা বন্ধ করার অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমি সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনব।"
সরকার আরো জানিয়েছে, চার দেশের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ বর্তমানে আশ্রয় সহায়তা পাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্র্যকে আশ্রয় আবেদনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আফগানিস্তানে অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ, সুদানে ২০২৩ সাল থেকে চলমান গৃহযুদ্ধ, ক্যামেরুনে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধ; সব মিলিয়ে এসব দেশ থেকে অভিবাসন প্রবাহ বেড়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে অভিবাসন নিয়মে পরিবর্তন এনে ভিসা বন্ধ করা হবে। এর আগে নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য সরকার অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও কঙ্গোর জন্যও ভিসা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, যা পরে ফেরত পাঠানোর চুক্তি হওয়ায় প্রত্যাহার করা হয়।
সরকার বলছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা প্রকৃত শরণার্থীদের সহায়তা করার ঐতিহ্য বজায় রাখতে চায়। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, এতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি আরো বাড়তে পারে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে।
logo-1-1740906910.png)