Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

ইরান যুদ্ধে সুপার পাওয়ারগুলো কে কোন দলে?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৯

ইরান যুদ্ধে সুপার পাওয়ারগুলো কে কোন দলে?

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যেই বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রায় চার ডজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এ অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরায়েলও ৯ জন নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বিবিসি নিউজ এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।  

খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে তেহরান তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে।  

এই সংঘাতকে ঘিরে বিশ্ব শক্তিগুলোর অবস্থান স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আক্রমণ জোরদার করছে এবং এটিকে “অস্তিত্বমূলক যুদ্ধ” হিসেবে দেখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো দ্বিধায় রয়েছে। কেউ কেউ ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে বলছে, আবার কেউ যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।  

রাশিয়া যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করছে। তারা জাতিসংঘে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। চীনও একইভাবে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারে।  

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোও দ্বিধায় রয়েছে। সৌদি আরব ও বাহরাইন ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে, তবে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তারা নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করছে। কাতার ও কুয়েত আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করেছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।  

ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিকেও নতুন করে বিভক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আক্রমণ জোরদার করছে, ইউরোপ দ্বিধায়, রাশিয়া ও চীন কূটনৈতিক সমাধান চাইছে, আরব দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তায় মনোযোগী। ফলে সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকেও নড়বড়ে করে তুলছে।  

এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এটি আর কেবল ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির অবস্থান ও প্রভাবের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

Logo