ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা এবং এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো অঞ্চল। উদ্ভূত এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক জরুরি বৈঠকে বসেছে নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং একটি বৃহত্তর যুদ্ধ এড়ানো। তবে বৈঠকে স্থায়ী কোনো যুদ্ধবিরতি বা রেজোলিউশন পাস না হলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সামরিক সংঘাত এমন এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলারও নিন্দা জানান। গুতেরেস সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "বিশ্ব আর একটি সংঘাত সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। আমাদের এখনই এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে সরে এসে কূটনীতির পথে ফিরতে হবে।" তিনি সকল পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বৈঠকে নিজের দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি এবং তা নির্মূল করতেই এই 'বৈধ' সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিনিধি ড্যানি ড্যাননও এই হামলাকে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দাবি করেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই অভিযানকে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন যে, হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই আগ্রাসনের বিচার এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি জানান। রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, একতরফা এই শক্তি প্রয়োগ মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেবে।
বৈঠকের ফলাফল হিসেবে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা মনে করেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাই শ্রেয়। নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে যদিও তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে বিশ্বনেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং তেলের বাজার অস্থির হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শান্তি ফেরাতে নিরাপত্তা পরিষদ আগামী দিনগুলোতে আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)