Logo
×

Follow Us

এশিয়া

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত রণক্ষেত্র, আকাশপথেও হামলা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১০

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত রণক্ষেত্র, আকাশপথেও হামলা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতভর দুই দেশের সীমান্তজুড়ে শুরু হওয়া সংঘাত এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহারসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পাকিস্তানি বাহিনীর অতর্কিত বিমান ও স্থল হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, কাবুলের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগান বাহিনী প্রথমে তাদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক হামলা চালিয়েছে, যার পাল্টা জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সীমান্ত উত্তজনা এখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক কড়া বার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বলেন, তাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে এবং এখন থেকে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে তাদের সরাসরি ও প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হলো। পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দেশপ্রেমের ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে এবং সাহসের সঙ্গে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি আরো যোগ করেন, পাকিস্তান বর্তমানে যে সহিংসতা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা তাদের নিজেদেরই তৈরি করা ভুল নীতির ফল এবং তারা বোমা হামলা চালিয়ে এই সংকট থেকে মুক্তি পাবে না।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই দেশ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে এবং এখনো নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর এই অতর্কিত হামলায় সাধারণ নাগরিকদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কাবুল ও কান্দাহারের মতো জনবহুল শহরগুলোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আফগান নেতাদের মতে, পাকিস্তানের উচিত যুদ্ধের পথ পরিহার করে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সংকট সমাধানের পথ বেছে নেওয়া।

এই যুদ্ধ কেবল দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে এই প্রকাশ্য যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। একদিকে পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডে বেড়ে চলা জঙ্গি তৎপরতার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করছে, অন্যদিকে আফগান সরকার পাকিস্তানের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে একে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন এই সংঘাতের দিকে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, এখনই থামার কোনো লক্ষণ নেই এবং রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।

Logo