Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

রমজানে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১

রমজানে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবও বটে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ মাসকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা রকমের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। কোথাও ইফতার আয়োজন হয় বিশাল তাঁবুতে, কোথাও আবার সাহরির সময় মানুষকে জাগাতে বাজানো হয় ঢোল।  

রমজান শুরু হওয়ার আগেই সৌদির বাজার ও রাস্তার পাশে সারি সারি তাঁবু বসানো হয়। অনেকগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এসব তাঁবুতে বিনামূল্যে ইফতার করানো হয়, যেখানে থাকে খেজুর, পানি, জুস, মাঠা, ফল, কফি, চিকেন বিরিয়ানি ও স্থানীয় খাবার। বিদেশি শ্রমিকদের ইফতার বা সাহরি কিনতে হয় না। পাশাপাশি সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।  

আমিরাতে রমজান শুরু হওয়ার আগেই পালিত হয় ‘হক আল লায়লা’ উৎসব। শাবানের ১৫ তারিখে শিশু-কিশোররা আনন্দে মেতে ওঠে। রমজান শুরু হলে নাইট ক্লাব ও বার বন্ধ থাকে, প্রকাশ্যে পানাহার ও ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ। দুবাইয়ে রমজানের চাঁদ দেখা ঘোষণা করে মুন সাইটিং কমিটি। কামান দাগিয়ে ইফতার ও সাহরির সময় জানানো হয়। ইফতারে প্রতিবেশী দেশগুলোর খাবারের প্রভাব স্পষ্ট।   

মালয়েশিয়ায় রমজান মানেই অতিথিপরায়ণতা। মসজিদগুলোতে বিনামূল্যে ইফতার দেওয়া হয়। বিশেষ খাবার বুবুর ল্যাম্বাক চাল, মাংস, নারকেলের দুধ ও ঘি দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি প্রায় পাঁচ দশক ধরে কুয়ালালামপুর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিতরণ হয়ে আসছে। ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। স্থানীয়রা পিঠা, হালুয়া, ভাত, ফলমূলসহ নানা খাবার দিয়ে ইফতার সাজান।

চাঁদ দেখা দিলে শিশুরা ফানুস ও বেলুন নিয়ে আনন্দ করে। জেরুজালেমে সেহরির সময় ছেলেমেয়েরা ড্রাম বাজিয়ে মানুষকে জাগায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ রীতি আজও জনপ্রিয়। ইফতারের সময় কামান ছোড়া ও আতশবাজি ফুটিয়ে সময় জানানো হয়। ফিলিস্তিনিরা রমজানে বিশেষ খাবার তৈরি করতে ভালোবাসেন।

তুরস্কে সেহরির সময় মানুষকে জাগাতে রাস্তায় ঢোল-দামামা বাজানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, অন্য মুসলমানকে সেহরির জন্য জাগানো সওয়াবের কাজ। ইফতার ও সেহরির সময় কামানের শব্দে সময় ঘোষণা করা হয়। দিনের বেলায় রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকে, তবে সেহরির সময় খোলা থাকে। দুপুরের পর থেকে ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়।  

মিসরে রমজান মাসে শহর আলোকসজ্জায় ঝলমল করে। পরিবারগুলো একসঙ্গে ইফতার করে, যদিও আধুনিকতার প্রভাবে তরুণরা ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে অভ্যস্ত হচ্ছে। তারাবি নামাজকে কেন্দ্র করে বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে। ইফতারের পরপরই দলবেঁধে তারাবির জন্য রওনা হন যুবকরা, ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় চারপাশ।

Logo