রমজানে বিখ্যাত হালিমের সুবাসে মাতোয়ারা ভারতের হায়দরাবাদ শহর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬
রমজান মাসে ভারতের হায়দরাবাদ শহর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। চারমিনারের আশপাশে ভিড় জমে হাজারো মানুষের। আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। তবে শুধু চারমিনার নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে খাবারের সুবাস। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো হায়দরাবাদি হালিম।
হালিম তৈরি করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পাত্রে ‘ভাট্টি’ বা কাদামাটি ও ইটের চুলায় রাঁধুনিরা ব্যস্ত থাকেন। বাদাম, বাসমতি চাল, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরা, ডাল, রসুন, কাঁচা মরিচ, ঘি, পেঁয়াজ, গম এবং মাটন; সব মিলিয়ে তৈরি হয় এই বিশেষ খাবার। সূর্যাস্তের পর রোজা ভাঙার সময় হালিমের স্বাদ নিতে রেস্তোরাঁ ও রাস্তার দোকানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।
মূলত আরব থেকে আসা এই খাবার শতাব্দী ধরে ভারতে জনপ্রিয় হয়েছে। স্থানীয় মসলা, শুকনো ফল আর উপকরণের সংযোজনে হায়দরাবাদি হালিম আজ কিংবদন্তি মর্যাদা পেয়েছে। ২০১০ সালে এটি ভারতের প্রথম মাংসজাত পণ্য হিসেবে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) স্বীকৃতি লাভ করে। বিখ্যাত শেফ সঞ্জীব কাপুর তার বইয়ে লিখেছেন, হালিম তৈরি এখন এক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
রমজানে সন্ধ্যা নামতেই হায়দরাবাদের পরিবেশ বদলে যায়। চারমিনারের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করা নিজেই এক অভিজ্ঞতা। লাড বাজারে রাতভর কেনাকাটা চলে লাক্ষার চুড়ি, মুক্তা, বিয়ের পোশাক আর আতর বিক্রি হয় এখানে। পুরনো শহর, টোলিচৌকি, মল্লেপল্লি, নামপল্লি; সব জায়গায় ভিড় জমে।
যুবক স্থপতি ও গবেষক মোহাম্মদ সিবঘাতুল্লাহ খান ‘দ্য ডেকান আর্কাইভ’-এর মাধ্যমে শহরের ইতিহাস ও স্থাপত্য তুলে ধরছেন। রমজানে তিনি রাতভর হাঁটার ট্যুর আয়োজন করেন, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা অংশ নেন। তার মতে, শহরের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার চাপের মধ্যে হায়দরাবাদ ক্রমেই বদলে যাচ্ছে।
রমজানে হায়দরাবাদ শুধু ধর্মীয় আবহেই নয়, খাবার, কেনাকাটা ও ঐতিহাসিক ভ্রমণের মাধ্যমে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে হালিম, যা শহরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে।
logo-1-1740906910.png)