শ্রীলঙ্কার ইয়ালা ন্যাশনাল পার্ক পর্যটকদের জন্য সেরা অ্যাডভেঞ্চার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬
শ্রীলঙ্কার ইয়ালা ন্যাশনাল পার্ক দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক আকর্ষণ। এখানে গেলে মনে হবে যেন নিজেই একটি প্রকৃতি বিষয়ক ডকুমেন্টারির অংশ। ভ্রমণকারীদের জন্য ইয়ালা পার্কে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি।
ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে ইয়ালা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়। এ সময় শুকনো আবহাওয়ায় প্রাণীরা জলাশয়ের কাছে চলে আসে, ফলে তাদের দেখা পাওয়া সহজ হয়। পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য নভেম্বর থেকে এপ্রিল সময়টি আদর্শ, কারণ এ সময় অভিবাসী পাখিরা সক্রিয় থাকে। ভিড় এড়িয়ে শান্ত পরিবেশ চাইলে মে ও জুন মাসে যাওয়া ভালো।
ইয়ালা পার্ক শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। কলম্বো থেকে ট্রেনে মাতারা গিয়ে সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে ইয়ালা পৌঁছানো যায়। আবার কলম্বো থেকে সরাসরি তিসামাহারামা পর্যন্ত বাসে গিয়ে সেখান থেকে টুকটুক ভাড়া করেও যাওয়া সম্ভব। এলা থেকে নিয়মিত বাস সার্ভিস আছে, আর দক্ষিণ উপকূলের মিরিসা বা হিরিকেতিয়া থেকেও বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে তিসামাহারামা পৌঁছানো যায়।
ইয়ালা পার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিত এর লেপার্ড জনসংখ্যার জন্য। এছাড়া হাতি, স্লথ বিয়ার, কুমির, মহিষ, শিয়াল, বুনো শূকর, বানর ও মনিটর লিজার্ডও এখানে দেখা যায়। পাখিপ্রেমীদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। ২১৫টিরও বেশি প্রজাতির পাখি এখানে রয়েছে, যার মধ্যে হর্নবিল, পেইন্টেড স্টর্ক ও অভিবাসী জলচর পাখি উল্লেখযোগ্য। পার্কের প্রাকৃতিক দৃশ্যও বৈচিত্র্যময়; জঙ্গল, বালিয়াড়ি, লেগুন আর খোলা সমতলভূমি মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ।
হালকা, বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরা ভালো। নিরপেক্ষ রঙের পোশাক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যায়। লম্বা হাতা জামা, লম্বা প্যান্ট আর স্পোর্টস জুতো সূর্য ও মশার হাত থেকে সুরক্ষা দেবে। সঙ্গে পানি, হালকা খাবার, ওয়েট ওয়াইপস রাখা উচিত। দূরবীন বা ভালো ক্যামেরা বিরল দৃশ্য ধারণে কাজে আসবে।
সাফারি ট্যুর ইয়ালার সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা। এতে পার্কের বড় অংশ ঘোরা যায় এবং নানা প্রাণী দেখা সম্ভব হয়। যারা প্রকৃতির সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হতে চান, তারা গাইডেড বুশ ওয়াকে অংশ নিতে পারেন। সকালে পাখি পর্যবেক্ষণের আয়োজনও থাকে। পার্কের সীমানাঘেঁষা সমুদ্রসৈকতও ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
পার্ক সকাল ৬টায় খোলে, তাই ভোরে পৌঁছানো ভালো। গাইডের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। প্রাণীদের বিরক্ত না করে নীরবে পর্যবেক্ষণ করাই সেরা অভিজ্ঞতা দেয়। পরিবেশ দূষণ এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এটি প্রাণীদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
logo-1-1740906910.png)