চীনের বসন্ত উৎসব ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ঢল নেমেছে। জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের (NIA) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দুই মিলিয়ন যাত্রী চীনে প্রবেশ করছেন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ১৪.১ শতাংশ বেশি। ভিসামুক্ত প্রবেশ নীতি ও পর্যটনের বাড়তি চাহিদা এ উচ্ছ্বাসের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন বর্তমানে ৪৮টি একতরফা এবং ২৯টি পারস্পরিক ভিসামুক্ত দেশের নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। এছাড়া ৬৫টি বন্দর দিয়ে ২৪০ ঘণ্টার ট্রানজিট ওয়েভার চালু রয়েছে। এসব নীতি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য চীনে প্রবেশকে আগের চেয়ে অনেক সহজ করেছে। ২০২৫ সালে মোট ৮২ মিলিয়ন বিদেশি আগমনের মধ্যে প্রায় ৩০ মিলিয়নই ভিসামুক্ত ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
চীনের ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ফ্লিগি জানিয়েছে, উৎসবের আগে দুই সপ্তাহে ফ্লাইট বুকিং বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। বিদেশি পর্যটকরা মন্দির মেলা, ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং ডিউটি-ফ্রি শপিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। হাইনানে ডিউটি-ফ্রি কেনাকাটা বিশেষভাবে বেড়েছে, যেখানে রাশিয়া, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকরা বিলাসবহুল পণ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ট্যাক্স রিফান্ড লেনদেনও ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীন বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্রস-বর্ডার মোবাইল পেমেন্ট চালু করেছে। আলিপে’র মতো প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ই-ওয়ালেট যুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নগদবিহীন লেনদেন এখন চীনে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, যা পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করছে।
বসন্ত উৎসবের ভ্রমণ উচ্ছ্বাস চীনের খুচরা বাজার ও পর্যটন খাতে বড় প্রভাব ফেলছে। বিলাসবহুল কেনাকাটা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে খুচরা, হোটেল ও পরিবহন খাতে। স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।
চীনের পর্যটন খাত এখন বৈশ্বিকভাবে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভিসামুক্ত প্রবেশ, ই-ভিসা সুবিধা ও ডিজিটাল অবকাঠামো আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটিকে আরো সহজলভ্য করছে। বসন্ত উৎসবের এ উচ্ছ্বাস চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)