ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়ায় শ্রমঘাটতি মেটাতে ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে পর্যটন, ক্যাটারিং ও নির্মাণশিল্পে তারা কাজ করছেন। কিন্তু কর্মী সংকট থাকা সত্ত্বেও বিদেশি শ্রমিকরা সেখানে সহিংসতা ও শোষণের শিকার হচ্ছেন।
ভারতের চণ্ডীগড় থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী ডিডি জানান, তিনি ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করার সময় একাধিকবার হেনস্তার শিকার হয়েছেন। কেউ তার দিকে থুতু ছেটেছে, কেউ চিৎকার করে বলেছে “নিজের দেশে ফিরে যান।” এমনকি তার ডেলিভারি ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু কাজ করতে এবং শান্তিতে বসবাস করতে এসেছিলাম।”
ডেলিভারি রাইডারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায় সাপ্তাহিকভাবে হামলার খবর আসে। কারো চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারো পাঁজর ফাটানো হয়েছে। যদিও জাতীয় অপরাধের তথ্যে ভুক্তভোগীদের জাতীয়তার ভিত্তিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নেই, তবে নেপালি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ২০২৪ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভারতীয়, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অনেক বিদেশি কর্মীকে অনিরাপদ ও গাদাগাদি আবাসনে থাকতে বাধ্য করা হয়। হাসান নামে এক ডেলিভারি রাইডার জানান, তাকে পাঁচজন পুরুষের সঙ্গে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ঘর ভাগ করে নিতে হয়েছে, যার জন্য প্রতি মাসে ২৭০ ইউরো ভাড়া দিতে হয়েছে। চাকরি হারানোর ভয়ে তিনি নিজের পদবি প্রকাশ করতে চাননি। তার অভিযোগ, “এটা পুরো চাঁদাবাজি।” সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে তাকে।
ইনস্টিটিউট ফর মাইগ্রেশন রিসার্চের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্রোয়েশিয়ার ৬০ শতাংশ মানুষ বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৪৬ শতাংশ। স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপরাধের হার বৃদ্ধি, মজুরি কমে যাওয়া, চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবিকা হারানোর ভয় মানুষকে উগ্রবাদী অবস্থানের দিকে ঠেলে দেয়।
রক্ষণশীল সরকার বিদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেছে। তারা সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মীদের জন্য ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। তবে অনেক ডানপন্থি রাজনীতিবিদ অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যে বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতিকে ইউরোপীয় জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের চক্রান্ত হিসেবে প্রচার করছেন।
logo-1-1740906910.png)