লিবিয়ায় নারী অভিবাসীদের ধর্ষণ-নির্যাতনের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় নারী অভিবাসীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে অবস্থানরত কন্যাশিশুসহ নারী অভিবাসীরা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন এবং গৃহদাসত্বে নিপতিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের বহনকারী নৌযানগুলোকে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০১১ সালে মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপে যেতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য ভূমধ্যসাগর পেরোনোর অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে দেশটি। ২০১৪ সাল থেকে দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব অংশে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাতে জর্জরিত।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় ও লিবিয়া সহায়তা মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে সক্রিয় পাচারচক্র প্রায়ই অভিবাসীদের অপহরণ করে। এদের সঙ্গে লিবীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। আটক অভিবাসীদের অনেক সময় বন্দুকের মুখে আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যা কার্যত স্বেচ্ছাচারী আটক হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে এক ইরিত্রীয় নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি পূর্ব লিবিয়ার তবরুকে একটি পাচারকেন্দ্রে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় আটক ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি চাইতাম আমার মৃত্যু হোক। এটি ছিল নরকের মতো এক যাত্রা।” ওই নারী জানান, আটককেন্দ্রে বহু পুরুষ তাকে বারবার ধর্ষণ করেছে। এমনকি ১৪ বছর বয়সী মেয়েরাও প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরিবার মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিনা মজুরিতে কাজ করানো, পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া এবং মায়েদের কাছ থেকে কন্যাশিশুদের আলাদা করে নেওয়ার মতো ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিনিধি সুকি নাগরা বলেন, নারীদের প্রকাশ্যে কাপড় খুলতে বাধ্য করা, অন্যদের সামনে ধর্ষণ ও মারধরের মতো অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে।
লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ এর আগে অভিবাসীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে জাতিসংঘ বলছে, অভিবাসীদের মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত পাঠানো বন্ধ রাখতে হবে। ইউরোপীয় কমিশনও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
প্রতিবেদনটি আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ১৬টি দেশের প্রায় ১০০ জন অভিবাসী ও শরণার্থীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, লিবিয়ায় নারী অভিবাসীরা ভয়াবহ মানবাধিকার সংকটে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
logo-1-1740906910.png)