অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শিখুন ফিশিং প্রতিরোধের কৌশল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২
অনলাইনে প্রতারণার অন্যতম বড় কৌশল হলো ফিশিং। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ভুয়া ই-মেইল, এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহজনক কোনো বার্তা পেলে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সেটিতে ক্লিক না করা। লিংক খোলা, ফাইল ডাউনলোড বা উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি ক্লিকেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে বা ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে যেতে পারে।
এমন বার্তা পেলে রিপোর্ট করা সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ। রিপোর্ট করলে ভুয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করা, প্রতারণামূলক ডোমেইন শনাক্ত করা এবং অন্য ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। ই-মেইল সেবা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড অথবা দেশের সাইবার অপরাধ দপ্তরে এসব বার্তা জানানো যায়।
ফিশিং ই-মেইল এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রতারণার মাধ্যম। অনেক ই-মেইল সেবায় ফিল্টার থাকলেও সব বার্তা ধরা পড়ে না। তাই সন্দেহজনক ই-মেইল নিজে থেকেই রিপোর্ট করা জরুরি। জিমেইলে ইনবক্সে সন্দেহজনক বার্তা খুলে রিপ্লাই বাটনের পাশের তিন ডট চিহ্নে চাপ দিয়ে রিপোর্ট ফিশিং অপশন নির্বাচন করা যায়। আউটলুকে বার্তা নির্বাচন করে রিপোর্ট অ্যান্ড ব্লক অপশন ব্যবহার করা যায়। অ্যাপল মেইলে সরাসরি রিপোর্টের সুযোগ না থাকলেও বার্তাকে জাঙ্কে পাঠালে ভবিষ্যতের বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাঙ্কে যাবে।
এসএমএসভিত্তিক প্রতারণাকে বলা হয় স্মিশিং এবং ফোনকলভিত্তিক প্রতারণাকে বলা হয় ভিশিং। আইফোনে মেসেজ ডিলিট অ্যান্ড রিপোর্ট স্প্যাম অপশন ব্যবহার করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডে মেসেজ ধরে রেখে ব্লক ও রিপোর্ট অ্যাজ স্প্যাম নির্বাচন করা যায়। প্রতারণামূলক কল হলে দেশের সাইবার অপরাধ দপ্তরে জানানো উচিত।
ফিশিং ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য বা আর্থিক তথ্য নেওয়ার জন্য তৈরি হয়। সন্দেহজনক ওয়েবসাইট সার্চ প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করলে অন্যরা সতর্ক হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে সরাসরি রিপোর্ট করা উচিত।
ভুল করে ফিশিং লিংকে ক্লিক করলে দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলানো জরুরি। ই-মেইলসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপ যাচাই চালু করতে হবে। আর্থিক তথ্য দিলে ব্যাংক বা কার্ড কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে পূর্ণ স্ক্যান চালানো এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে সুরক্ষার জন্য সন্দেহজনক বার্তার লিংকে ক্লিক না করা, অচেনা সংযুক্তি না খোলা এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফিশিং রিপোর্ট করা শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য নয়, এটি অন্যদেরও সুরক্ষিত রাখে। একটি রিপোর্টই বন্ধ করতে পারে বড় প্রতারণা চক্র।
logo-1-1740906910.png)