যুক্তরাজ্যে শ্রম আইন সংস্কার: নিয়োগ কমাবে অনেক প্রতিষ্ঠান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩
যুক্তরাজ্যে নতুন শ্রম আইন সংস্কারের কারণে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা করছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রতিষ্ঠান। চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CIPD) পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোভিড মহামারির প্রথম বছর বাদ দিলে এবার নিয়োগের ইচ্ছা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে চলমান কর্মসংস্থান সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার গত ডিসেম্বর সংসদে এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট পাস করে। নতুন কর্মীদের অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার পরিকল্পনা কিছুটা শিথিল করা হলেও অসুস্থতাজনিত ছুটি, জিরো-আওয়ার্স চুক্তি এবং ইউনিয়ন অধিকারের বিষয়ে কঠোর নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।
সিআইপিডি জানিয়েছে, চার ভাগের তিন ভাগ প্রতিষ্ঠান মনে করছে এ সংস্কার কর্মসংস্থান ব্যয় বাড়াবে। অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্বও বাড়তে পারে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এ সংস্কারের খরচ হবে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড (১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তবে সিআইপিডি বলছে, প্রকৃত ব্যয় আরো বেশি হবে, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ নীতি হালনাগাদ, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণ দিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
সিআইপিডির জননীতি প্রধান বেন উইলমট বলেন, “সরকারের উচিত সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এর মধ্যে রয়েছে অর্থবহ পরামর্শ এবং প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা।”
জরিপে আরো দেখা গেছে, টানা সাত ত্রৈমাসিক ধরে মৌলিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশে স্থির রয়েছে। ডিসেম্বর ১৮ থেকে জানুয়ারি ১৬ পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে ২,০৮২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন শ্রম আইন কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক হলেও নিয়োগকর্তাদের জন্য ব্যয় ও জটিলতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি আরো কমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)