Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ করেছে ৮ বাংলাদেশি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯

যুক্তরাষ্ট্রে ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ করেছে ৮ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল আত্মসাৎ ও চুরির ঘটনায় নয়জন প্রবাসী দোষ স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এই মামলার শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। কুইন্স কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল অফিস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে আবেদন করেন। আবেদনে কর্মচারীদের বেতন, ভাড়া ও অন্যান্য খরচের কথা উল্লেখ করা হলেও অধিকাংশ অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, তহবিল পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না।  

কুইন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালত তাদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা) ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে।  

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, দুর্যোগকালে জনস্বার্থের তহবিল আত্মসাৎ গুরুতর অপরাধ। ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাংও জানান, জনকল্যাণের অর্থ ব্যক্তিগত লাভে ব্যবহার কোনোভাবেই সহনীয় নয়। তাদের মতে, এই রায় অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।  

প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘটনায় হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ নয়, বরং প্রবাসীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য দেওয়া তহবিল আত্মসাৎ করা মানে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে প্রতারণা করা।

Logo