অস্ট্রেলিয়ায় ১৩ দেশের অভিবাসন নিষিদ্ধের প্রস্তাব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির একটি গোপন নীতি পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে অভিবাসন বন্ধ করা হবে। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রস্তাবিত এই নীতিতে মিশর, ফিলিস্তিন ও ফিলিপাইনসহ মোট ১৩টি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে অভিবাসন নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ৩৭টি অঞ্চলকে চিহ্নিত করা হতে পারে। এতে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, মিশর, লেবানন, লিবিয়া, মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, গাজা, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা সুসান লে, শ্যাডো ইমিগ্রেশন মন্ত্রী পল স্কার এবং শ্যাডো হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী জনো ডুনিয়ামের নেতৃত্বে। তবে এখনো এটি শ্যাডো ক্যাবিনেট বা নেতৃত্ব পর্যায়ে অনুমোদিত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর স্কাই নিউজকে বলেন, তিনি এই নীতির বিস্তারিত দেখেননি। তবে অভিবাসন কোনো জাতি বা ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হলে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মৌলিক মূল্যবোধকে সম্মান করতে হবে। যারা এই মূল্যবোধকে প্রত্যাখ্যান করবে, তাদের জন্য দরজা বন্ধ থাকবে।
ন্যাশনালস দলের নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড এই প্রস্তাবকে “কমন সেন্স” বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ওয়ান নেশন দলের নেতা পলিন হ্যানসন লিবারেল পার্টিকে সমালোচনা করে বলেছেন, তারা অভিবাসন বিষয়ে লেবার পার্টির মতোই নরম অবস্থান নিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, অভিবাসন সংখ্যা ও মান নিয়ন্ত্রণ না করায় দেশের নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বন্ডাই বিচে সন্ত্রাসী হামলার পর অভিবাসন ইস্যু অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিতর্কে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ওয়ান নেশনের কঠোর অবস্থান জনসমর্থন বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লিবারেল পার্টির প্রস্তাবিত নীতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির ফাঁস হওয়া নীতি পরিকল্পনা অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো এটি অনুমোদিত হয়নি, তবে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে অভিবাসন কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক মহল বলছে, এটি অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)