জার্মানিতে ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষায় জালিয়াতি চক্র ধরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০
জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে পুলিশ অভিবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাষা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার সঙ্গে জড়িত একটি বড় জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। এই চক্রের মূল অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সী এক ইরাকি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিবাসীদের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে জার্মান ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ করতেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিনিময়ে তিনি অভিবাসীদের কাছ থেকে ছয় হাজার ইউরো পর্যন্ত অর্থ নিতেন। এভাবে বহু অভিবাসীকে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে সাহায্য করতেন।
মূল অভিযুক্ত ছাড়াও আরো কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জানুয়ারিতে ২২ বছর বয়সী এক জার্মান নাগরিককে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধরা হয়। গত ডিসেম্বরে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার একটি ভাষাশিক্ষা স্কুলে ১০ জনকে একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশ বলছে, শুধু অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়া নয়, বরং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীর তথ্য বদলে দেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষার সার্টিফিকেটে ছবি না থাকায় জালিয়াতি ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এই সার্টিফিকেট পরে আবাসিক অনুমতি বা নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হতো।
এ ধরনের জালিয়াতি নতুন নয়। ২০২৪ সালে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে শত শত ভুয়া ভাষাশিক্ষা সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। একই বছর জার্মান সরকার ভুয়া পিতৃত্ব দাবির বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করে। ইউরোপজুড়ে পুলিশ অভিবাসন জালিয়াতি ও মানব পাচারকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
জার্মানিতে নাগরিকত্ব পেতে ভাষা ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জালিয়াতি চক্র অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত আরো বিস্তৃত হবে এবং জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
logo-1-1740906910.png)