কোভিড-১৯ মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে দুর্বল বছর ছিল ২০২৫ সাল। নতুন চাকরি সৃষ্টির ক্ষেত্রে সে বছর ছিল প্রায় স্থবির। অথচ নতুন বছরের শুরুতেই শ্রমবাজারে গতি ফিরেছে। জানুয়ারিতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, ফলে বেকারত্বের হার কমেছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেকারত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৩ শতাংশে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৪.৪ শতাংশ। একই সঙ্গে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার। সরকারি ব্যয় কমানো, শুল্ক অনিশ্চয়তা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের কারণে শ্রমবাজারে ধীরগতি দেখা দেয়। পরে সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, ২০২৫ সালে প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে ৮ লাখ ৬২ হাজার কম চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল।
জানুয়ারিতে স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। বিপরীতে ফেডারেল সরকার ও আর্থিক খাতে চাকরি কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন চাকরির বড় অংশ সীমিত কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সামগ্রিক শ্রমবাজারের শক্তি কিছুটা ‘অতিরঞ্জিত’ মনে হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার কমানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। তবে জানুয়ারির ইতিবাচক কর্মসংস্থান তথ্য ফেডকে দ্রুত সুদ কমানোর চাপ কিছুটা কমিয়েছে। মরগান স্ট্যানলি ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলবিদ এলেন জেন্টনার বলেছেন, কর্মসংস্থানে এমন গতি বেকারত্ব কমাতে যথেষ্ট এবং এটি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থির অবস্থানকে সমর্থন করে।
২০২৫ সালের দুর্বলতার পর ২০২৬ সালের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিগত প্রভাব এবং খাতভিত্তিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই প্রবৃদ্ধি বাস্তবতার তুলনায় কিছুটা বেশি শক্তিশালী মনে হতে পারে। তবু নতুন বছরের শুরুতে এই ইতিবাচক ধারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।
logo-1-1740906910.png)