Logo
×

Follow Us

এশিয়া

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রভাব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রভাব

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন রেমিট্যান্স প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে, যদিও তাদের প্রভাব ও নির্ভরতার মাত্রা ভিন্ন।  

পরিমাণের দিক থেকে ভারত শীর্ষে রয়েছে। দেশটি বছরে প্রায় ১২০-১৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পায়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। মাসিক হিসাবে ভারতের আয় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে বিশাল অর্থনীতি হওয়ায় ভারতের জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান তুলনামূলকভাবে সীমিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স মূলত ভোগ ও সঞ্চয় বাড়ায়, কিন্তু সংকট নিরসনের প্রধান অস্ত্র নয়।  

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স অর্থনীতির জন্য আরো গভীর প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান পেয়েছে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যা এক মাসে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয়।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো শীর্ষ উৎস হিসেবে রয়েছে।  

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স এখন শুধু আয় নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রার মান স্থিতিশীলতার প্রধান ভরসা। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি টেকসই হচ্ছে। পাকিস্তানে রুপির স্থিতিশীলতা এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের ব্যবধান কমে আসাই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির বড় কারণ।  

শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক সংকটের পর রেমিট্যান্স আবারো বাড়ছে, মাসে গড়ে ৫০-৭০ কোটি ডলার আসছে। নেপালের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স জিডিপির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভরসা। ভুটানে প্রবাসী আয় সীমিত এবং ভারতনির্ভর। মালদ্বীপে পর্যটনের পাশাপাশি রেমিট্যান্স সংকটকালে পরিবারের খরচ ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

Logo