যুক্তরাজ্যে ভুয়া মোবাইল বিজ্ঞাপনের ফাঁদে মিলিয়ন ডলার ক্ষতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সামনে প্রায় ৯৫০০ কোটি ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে। গবেষণা বলছে, প্রতি ১০টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে অন্তত একটি প্রতারণামূলক বা ‘স্ক্যাম’। গড়ে একজন ব্যবহারকারী মাসে প্রায় ১৮৫টি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছেন।
এই বিজ্ঞাপনগুলোতে প্রতারিত হয়ে ব্রিটিশ নাগরিকরা গড়ে ১ হাজার ২৫৮ পাউন্ড অর্থ হারিয়েছেন। সম্মিলিতভাবে ২০২৫ সালে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে ৮৪ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। ইউরোপে ব্যক্তিগত ক্ষতির তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান দ্বিতীয়, শীর্ষে রয়েছে আয়ারল্যান্ড।
প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমগুলো বছরে প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব আয় করেছে। ইউরোপজুড়ে এই আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড, যা মোট সামাজিক মাধ্যম বিজ্ঞাপন আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ।
গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতারণার ধরনগুলো স্পষ্ট হয়েছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেইক ভিডিও ও অডিও, পরিচয় চুরি, নকল অনলাইন শপ বা বিক্রেতা সেজে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, কনসার্ট ও ফুটবল ম্যাচের টিকিট প্রতারণা, এমনকি সরকারি দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে চালানো প্রতারণা সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
অর্থ বিনিয়োগে বিভ্রান্তি তৈরি করাও বড় একটি ধারা। টিকটকের ট্রেডিং ভিডিওর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় ৫৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক সামাজিক মাধ্যমের আর্থিক পরামর্শ অনুসরণ করে অর্থ হারিয়েছেন। লয়েডস ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ি ও যন্ত্রাংশ, কনসার্টের টিকিট এবং ড্রাইভিং শেখানো বা টেস্টের নামে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয়েছে। ওয়েসিস ব্যান্ডের কনসার্টের টিকিট প্রতারণার ৯০ শতাংশের বেশি শুরু হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে।
প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা শুধু অর্থ হারাচ্ছেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা ও সঞ্চয়ের ওপরও প্রভাব পড়ছে। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
প্রতিরোধে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেটা জানিয়েছে, তারা গত নভেম্বরে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে। তবে গবেষণায় অভিযোগ উঠেছে, আসলে তারা বিশেষ কিছু কীওয়ার্ড ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনগুলো লুকিয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে, রিভোলুট নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে, যা ব্যবহারকারী ফোনে কথা বলার সময় অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কবার্তা দেয়। এর মাধ্যমে পরিচয় চুরি বা প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
যুক্তরাজ্যে ভুয়া বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ও আর্থিক ক্ষতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গবেষকরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতারণার ধরণগুলো ক্রমেই জটিল হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। তাই প্রযুক্তি জায়ান্টদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের সতর্কতা জোরদার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
logo-1-1740906910.png)