যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসন আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না পরিবার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসী পরিবারগুলো নির্বাসনের ভয়ে নিজেদের ঘরে স্ব-বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে শিশুদের আবারো অনলাইন শিক্ষায় ফিরতে হচ্ছে।
এসমেরালদা, কেভিন ও কার্লোস নামের তিন শিশু একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে কম্পিউটারের সামনে বসে অনলাইন ক্লাস করছে। তাদের পরিবার মেক্সিকো থেকে এসেছে, কিন্তু বৈধ কাগজপত্র নেই। স্কুলে আকস্মিক অভিবাসন পরীক্ষার পর তাদের মা সিদ্ধান্ত নেন সন্তানরা আর স্কুলে যাবে না।
অভিবাসী অধিকার সংস্থাগুলোর মতে, হাজার হাজার শিশু এখন “আধা-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা”র মধ্যে রয়েছে। তারা পাঠ অনুসরণ করে, হোমওয়ার্ক করে, কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নেই। স্কুলের খাবার, মানসিক সহায়তা বা একাডেমিক কাউন্সেলিং থেকেও তারা বঞ্চিত। প্রযুক্তির সীমিত অ্যাক্সেসের কারণে শিক্ষাগত ব্যবধান আরো বাড়ছে। ছোটরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না, বড়রা প্রেরণা হারাচ্ছে এবং স্কুল সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
শিশুরা ক্রমাগত উদ্বেগের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের শেখানো হচ্ছে বাইরের শব্দ শুনলে চুপ থাকতে, দরজা না খুলতে এবং নিজেদের দিকে মনোযোগ না আকর্ষণ করতে। এই চাপ শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষকরা সতর্ক করেছেন, মহামারীর সময়কার অনলাইন শিক্ষার সঙ্গে এই পরিস্থিতি ভিন্ন; এখানে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় স্থায়ীভাবে যুক্ত।
মিনিয়াপোলিসের স্কুলগুলো অনলাইন ক্লাস বজায় রেখে নমনীয় উপস্থিতি ও অ্যাসাইনমেন্টের ব্যবস্থা করেছে। তবে শিক্ষকরা স্বীকার করেছেন, মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা কঠিন। ফলে পারিবারিক সহিংসতা বা মানসিক সমস্যার লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে “অদৃশ্য শিক্ষার্থীদের একটি প্রজন্ম” তৈরি হবে। এটি শুধু তাদের ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও শিক্ষাগত সমতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
১৪ বছর বয়সী এসমেরালদা তার ঘরকে শ্রেণিকক্ষ ও আশ্রয়ে পরিণত করাকে “অদ্ভুত, চাপপূর্ণ ও বিরক্তিকর” বলে বর্ণনা করেছে। প্রতিদিনের জীবন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
logo-1-1740906910.png)