Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের গণআটক নীতিতে আপিল আদালতের সম্মতি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০

ট্রাম্পের গণআটক নীতিতে আপিল আদালতের সম্মতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত গণআটক নীতিকে বৈধতা দিয়েছে। এই নীতির অধীনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (ICE) যাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়, তাদের অধিকাংশকেই জামিন ছাড়াই আটক রাখা হবে। যদিও তাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকে এবং তারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছেন।  

এপির তথ্য অনুযায়ী, তিন বিচারকের বিভক্ত রায়ে দুইজন বিচারক প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। বিচারপতি এডিথ জোন্স লিখেছেন, “আগের প্রশাসনগুলো তাদের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করেনি বলে এই ক্ষমতা নেই এমনটা বলা যায় না।” তার সঙ্গে একমত হন ট্রাম্প নিযুক্ত বিচারপতি কাইল ডানকান। তবে বাইডেন নিযুক্ত বিচারপতি ডানা ডগলাস ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এই রায় কার্যকর হলে প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীকে জামিন ছাড়াই আটক রাখতে হবে, যাদের মধ্যে অনেকেই মার্কিন নাগরিকদের স্বজন।  

গত জুলাইয়ে আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স আইনটির নতুন ব্যাখ্যা দেন। তিনি ঘোষণা করেন, যাদের বহিষ্কারের লক্ষ্য করা হয়েছে তাদের সবাইকে “আবেদনকারী” হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা হবে। অক্টোবর মাসে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসও এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে।

তবে দেশজুড়ে শত শত জেলা আদালত এই নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৩৬০ জনের বেশি বিচারক ৩ হাজার মামলায় প্রশাসনের অবস্থানকে অগ্রাহ্য করেছেন, আর মাত্র ২৭ জন বিচারক প্রায় ১৩০ মামলায় সমর্থন দিয়েছেন।  

বিচারপতি ডগলাস তার ভিন্নমতে লিখেছেন, “সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী অভিবাসন আটক নীতি কার্যত পুরো দেশকে সীমান্তে পরিণত করছে। এটি কংগ্রেসের প্রণীত আইন নয়।”  

এই রায় এখন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সার্কিট কোর্টে নীতির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। সপ্তম সার্কিট কোর্ট প্রশাসনের অবস্থানের বিপরীতে ইঙ্গিত দিয়েছে।

মূলত ৩০ বছর পুরনো অভিবাসন আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনকারীদের জামিন ছাড়া আটক রাখার বিধান রয়েছে। এতদিন এটি নতুন আগতদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশের অভ্যন্তরে বহু বছর ধরে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রয়োগ করতে চাইছে।

Logo