Logo
×

Follow Us

এশিয়া

থাইল্যান্ডে বিলাসবহুল জীবন ও প্রবাসীদের বাস্তবতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২

থাইল্যান্ডে বিলাসবহুল জীবন ও প্রবাসীদের বাস্তবতা

থাইল্যান্ডের সম্পত্তি ও জীবনধারা বাজারে এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকক ও পাতায়ার মধ্যে এই বৈপরীত্য সবচেয়ে স্পষ্ট। ব্যাংককে বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম বাজার এখনো টিকে আছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের যত্ন ও ওয়েলনেস সেন্টারের কাছাকাছি প্রকল্পগুলো ধনী থাই, দীর্ঘমেয়াদি প্রবাসী এবং বিদেশি অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয়।

দেশটির জনপ্রিয় দৈনিক পাতায়া মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভেলপাররা এখন বড় প্রকল্পের বদলে ছোট কিন্তু উচ্চমূল্যের উন্নয়নকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে খরচও বেড়েছে। জনপ্রিয় এলাকায় ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত প্রবাসীদের কাছে ব্যাংকক আর সস্তার শহর নয়, বরং আঞ্চলিক রাজধানীর মতো ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।  

অন্যদিকে পাতায়ায় চিত্র ভিন্ন। শহরের কিছু অংশে পর্যটন আবার জমে উঠেছে। রেস্তোরাঁ, বার ও নাইটলাইফ এলাকায় ভিড় বাড়ছে। কিন্তু এক ব্লক দূরে গেলেই দেখা যায় খালি কন্ডোমিনিয়াম, ভাড়া না হওয়া শপহাউস আর স্থবির খুচরা ব্যবসা। পর্যটন পুনরুদ্ধার হচ্ছে, তবে তা খুবই স্থানীয় ও সীমিত। নাইটলাইফে ভিড় থাকলেও শহরের সামগ্রিক অর্থনীতি দুর্বল।  

প্রবাসীদের জন্য এই বৈপরীত্য আরো স্পষ্ট। তারা দেখছেন ভাড়া আয় কমে যাচ্ছে, ছোট ব্যবসার সুযোগ কমছে এবং শহরের অর্থনীতি ক্রমেই স্বল্পমেয়াদি ভোগের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে পাতায়া ব্যস্ত হলেও সমৃদ্ধ নয়।  

সব মিলিয়ে, ব্যাংককের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেটের উত্থান আর পাতায়ার খালি দোকানঘর আসলে একই প্রবণতার প্রতিফলন, গভীরতা ছাড়া প্রবৃদ্ধি। থাইল্যান্ডের সম্পত্তি বাজার ভেঙে পড়ছে না, তবে খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে। উচ্চমানের প্রকল্প ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো টিকে আছে, কিন্তু সাধারণ অর্থনীতি তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।  

প্রবাসীদের জন্য শিক্ষা হলো লোকেশন বেছে নিতে সতর্ক হতে হবে। ভিড় মানেই স্থিতিশীলতা নয়, আর ভরা রেস্তোরাঁ মানেই সুস্থ অর্থনীতি নয়। 

Logo