যুক্তরাজ্যে কিছু নিয়োগকর্তা পাচ্ছেন স্পন্সর করার অনুমতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬
যুক্তরাজ্যে আগে দক্ষ কর্মী ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে আবারো অভিবাসী কর্মী স্পন্সর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে দেশটিতে অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় দৈনিক দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, গত কয়েক বছরে হোম অফিস অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভিসা স্পন্সর করার লাইসেন্স বাতিল করেছিল। অভিযোগ ছিল, তারা ভুয়া চাকরির জন্য ভিসা দিয়েছে, কর্মীদের কম মজুরি দিয়েছে এবং অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ৫৬৬টি কেয়ার প্রতিষ্ঠানকে এভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ৭৪টি আবারও লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে। এমনকি কিছু পরিচালক নতুন কোম্পানি খুলে আবারো অভিবাসী কর্মী স্পন্সর করছেন।
এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অভিবাসন উপদেষ্টা ব্রায়ান বেল বলেছেন, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কোনো শাস্তি নয়। সাবেক অভিবাসন প্রধান পরিদর্শক জন ভাইনও বলেছেন, নিয়মগুলো আরো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা দরকার।
হোম অফিস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। প্রয়োজনে নতুন আইন আনা হবে যাতে ভিসার অপব্যবহার বন্ধ হয় এবং অভিবাসী কর্মীরা শোষণের শিকার না হন।
এই সিদ্ধান্তে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও আফ্রিকার অনেক কর্মী যুক্তরাজ্যের কেয়ার সেক্টরে কাজ করেন। তারা আশঙ্কা করছেন, আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ছিল, আবারো সেখানে কাজ করতে গিয়ে তারা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের কেয়ার সেক্টরে কর্মীর ঘাটতি থাকায় সরকার বাধ্য হচ্ছে লাইসেন্স ফিরিয়ে দিতে। তবে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত না হলে শোষণ আরো বাড়তে পারে। অনেক অভিবাসী অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রতিশ্রুত মজুরি দেওয়া হয় না, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয় এবং কখনো কখনো ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে কেয়ার সেক্টরে অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন। নতুন এই সিদ্ধান্তে তাদের জন্য সুযোগ তৈরি হলেও শোষণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা পরামর্শ দিয়েছেন, কর্মীরা যেন নিয়োগকর্তার বৈধতা যাচাই করেন এবং কোনো অনিয়ম হলে তা দ্রুত জানান।
যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে কর্মীর ঘাটতি পূরণে অভিবাসী শ্রমিক অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে তাদের শোষণের আশঙ্কা বাড়ছে।
logo-1-1740906910.png)