যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী করেছে অভিবাসীরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা গত তিন দশকে সরকারি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। কেটো ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসীরা কর হিসেবে সরকারের আয় বাড়িয়েছে এবং তারা যে সুবিধা পেয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ঘাটতি কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে অভিবাসীরা স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে কর প্রদান করে মোট ১৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক উদ্বৃত্ত তৈরি করেছেন। গবেষণা অনুযায়ী, অভিবাসন না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতোমধ্যেই জিডিপির ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতির আকার প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার।
কেটো ইনস্টিটিউটের ব্লগে আরো বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীরাও অন্তত ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ঘাটতি কমাতে ভূমিকা রেখেছেন। সামগ্রিকভাবে অভিবাসীরা ফেডারেল ঘাটতি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছে। অভিবাসন ছাড়া ফেডারেল ঘাটতি ৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে কেন অভিবাসীরা আর্থিকভাবে লাভজনক। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের বড় অংশ সামরিক খরচ ও পুরনো ঋণের সুদে যায়, যা জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়ে না। ফলে অভিবাসীরা নতুন করদাতা হিসেবে যুক্ত হলেও এসব খরচ বাড়ে না। এতে সরকারের আয় বাড়ে কিন্তু ব্যয় একই থাকে।
অভিবাসীরা সাধারণত স্থানীয়দের তুলনায় কম মজুরি পান। তবে তারা বেশি হারে কাজ করেন এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বেশি। এর ফলে তাদের মাথাপিছু আয় বাড়ে এবং তারা কর হিসেবে বেশি অবদান রাখেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম মজুরি পেলেও অভিবাসীরা গড়ে স্থানীয়দের চেয়ে বেশি রাজস্ব তৈরি করেছেন।
অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রেও অভিবাসীরা তুলনামূলক কম চাপ সৃষ্টি করেন। অনেক অভিবাসী সরকারি চাকরিতে ছিলেন না, তাই তারা সরকারি পেনশনের যোগ্য নন। আবার কেউ কেউ বয়সে দেরিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বা মেডিকেয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজের ইতিহাস গড়ে ওঠেনি।
শিক্ষা খাতে অভিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমিয়ে দেন। গড়ে একজন অভিবাসী ২৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, অর্থাৎ দেশটি তাদের শিক্ষার খরচ বহন করে না। যদিও অভিবাসী শিশুদের দ্বিভাষিক শিক্ষার কারণে কিছু বাড়তি খরচ হয়, তবুও সামগ্রিকভাবে তারা স্থানীয়দের তুলনায় অর্ধেক খরচ বাড়ান।
কল্যাণমূলক সুবিধার ব্যবহার নিয়েও গবেষণায় বলা হয়েছে, অভিবাসীরা দারিদ্র্যে বেশি ভোগেন, তবে তারা স্থানীয়দের মতোই কল্যাণভিত্তিক সহায়তা ব্যবহার করেন। অনেক অভিবাসী অবৈধভাবে থাকায় বেশির ভাগ রাজ্যে তারা এসব সুবিধার জন্য যোগ্য নন।
প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হলো, অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে দুর্বল করেনি বরং শক্তিশালী করেছে। অভিবাসীরা সরকারি ঋণ কমিয়েছে, কর রাজস্ব বাড়িয়েছে এবং শিক্ষা ও অবসর খাতে তুলনামূলক কম চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি নিম্ন দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীরাও ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ কমাতে সাহায্য করেছেন।
গবেষণাটি করেছেন কেটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা পরিচালক ডেভিড বিয়ার, মাইকেল হাওয়ার্ড ও জুলিয়ান সালাজার। তাদের মতে, অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতি বছরই ইতিবাচক আর্থিক প্রভাব ফেলেছে।
logo-1-1740906910.png)