ব্রাজিল এখন বিশ্বের দ্রুততম বেড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দেশটির প্রাণবন্ত সংস্কৃতি, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলে ৯.৩ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে ইউরোপ থেকে। বিশেষ করে স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স থেকে।
স্পেনের পর্যটক বৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। তিন বছরের তুলনায় দেশটি থেকে ব্রাজিলে পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে ৯২ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ নতুন সরাসরি বিমান যোগাযোগ। স্পেন থেকে এখন ছয়টি সরাসরি ফ্লাইট ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে যায়, যার মধ্যে ফোর্টালেজা ও রেসিফে রয়েছে। এতে ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য ব্রাজিল ভ্রমণ আরো সহজ হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে আইবেরিয়া এয়ারলাইনস মাদ্রিদ থেকে ফোর্টালেজা ও রেসিফে নতুন দুটি রুট চালু করে। এর ফলে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যটকদের কাছে আরো উন্মুক্ত হয়। এই অঞ্চল সমুদ্রসৈকত, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও সুস্বাদু খাবারের জন্য বিখ্যাত। পর্যটকরা এখানে স্থানীয় খাবার যেমন ফেইজোয়াদা ও মোকেকার স্বাদ নিতে পারেন।
পর্যটনের এই উত্থান ব্রাজিলের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালে পর্যটন খাত দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৮ শতাংশে অবদান রাখে। বিদেশি পর্যটকরা প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন ইউরো অর্থনীতিতে যুক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বে দেশটির পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে পর্যটন এখন অন্যতম চালিকাশক্তি।
ব্রাজিল তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। একসময় নিরাপত্তা ও সুনাম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এখন দেশটি আবারো বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শুধু সৈকত ও কার্নিভাল নয়, পর্যটকরা এখন আমাজন জঙ্গল, প্যানটানালের বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং ইগুয়াজু জলপ্রপাতের মতো বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার জন্য ব্রাজিলে ভিড় করছেন।
তবে নিরাপত্তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ এখনো রয়েছে। এ নিয়ে ব্রাজিলের পর্যটন সংস্থা এমব্রাতুর জানিয়েছে, দেশটি আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশ পর্যটক আবারো ব্রাজিলে ফিরতে চান। পর্যটকদের আরো আকৃষ্ট করতে চালু হয়েছে ‘ব্রাজিল এয়ার পাস’, যা এক টিকিটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকরা শুধু জনপ্রিয় শহর নয়, অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত অঞ্চলও ঘুরে দেখতে পারবেন।
ব্রাজিল পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। রিও ডি জেনেরিওর ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার ভাস্কর্য থেকে শুরু করে আমাজনের গভীর জঙ্গল, ইগুয়াজু জলপ্রপাত কিংবা স্থানীয়দের উষ্ণ আতিথেয়তা; সব মিলিয়ে দেশটি ভ্রমণকারীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে ওঠে। ব্রাজিলের খাবারও বিশ্বখ্যাত, যেখানে সাহসী স্বাদ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য মিশে আছে।
ইউরোপীয় পর্যটকের এই ঢল ব্রাজিলকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। উন্নত বিমানসংযোগ, বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা উদ্যোগের কারণে দেশটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র। যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখনই ব্রাজিলের প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও অপরিসীম সৌন্দর্য উপভোগ করার সেরা সময়।
logo-1-1740906910.png)