বুলগেরিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপে অভিবাসী পাচার, গ্রেপ্তার ১৬
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১
বুলগেরিয়া, গ্রিস ও ইউরোপোলের যৌথ অভিযানে তুরস্ক থেকে বুলগেরিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপে অভিবাসী পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে অভিবাসী পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে, বুলগেরিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে গ্রিসের পুলিশ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটি তুরস্ক থেকে অভিবাসীদের বুলগেরিয়ায় নিয়ে আসত এবং সেখান থেকে রোমানিয়া বা সার্বিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাত। বুলগেরিয়াকে তারা একটি ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করত। অভিযানের সময় পুলিশ ছয়টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল ফোন, নথিপত্র, গাড়ির কাগজপত্র এবং হাতে লেখা নোট জব্দ করেছে, যেখানে যাত্রাপথ, অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্য ছিল।
ইউরোপোলের তথ্যমতে, তুরস্কে থাকা নিয়োগকারীরা প্রথমে অভিবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং যাত্রার আগেই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করত। অভিবাসীরা সাধারণত অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা দিতেন, যাতে ব্যাংক বা সরকারি নথিতে কোনো রেকর্ড না থাকে। এরপর পাচারকারীরা অভিবাসীদের দক্ষিণ বুলগেরিয়ার সীমান্ত দিয়ে পায়ে হেঁটে দেশের ভেতরে নিয়ে আসত। সরকারি সীমান্ত পারাপারের পথ এড়িয়ে তারা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাত এবং সেখান থেকে গাড়ি বা বাসে করে রাজধানী সোফিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হতো।
কিছু অভিবাসীকে সোফিয়া ও আশপাশের এলাকায় অল্প সময়ের জন্য তথাকথিত ‘সেইফ হাউস’-এ রাখা হতো। অন্যদের কোনো বিরতি ছাড়াই সার্বিয়া বা রোমানিয়ার সীমান্তের দিকে পাঠানো হতো। সেখান থেকে অন্য পাচারকারী চক্র যাত্রার দায়িত্ব নিত এবং অভিবাসীদের পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর দিকে পাঠানো হতো। পুলিশ জানিয়েছে, সোফিয়াভিত্তিক একটি মূল দল বুলগেরিয়ার ভেতরে পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করত। এই দলে বুলগেরিয়ান ও সিরীয় নাগরিক উভয়ই ছিলেন। কেউ পরিবহন দেখভাল করতেন, কেউ থাকার ব্যবস্থা করতেন, আবার কেউ প্রতিবেশী দেশগুলোর পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের কারণে অভিবাসন রুট বারবার বদলাচ্ছে। একটি রুট বন্ধ হলে নতুন রুট তৈরি হয়, যা অভিবাসীদের আরো দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে বাধ্য করে। পাচারকারীরা অর্থ পরিশোধের পর থেকেই যাত্রার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে, ফলে অভিবাসীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত থাকে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বুলগেরিয়ার সীমান্তে অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তুরস্ক সীমান্তের কাছে তিনজন মিসরীয় কিশোর ঠান্ডায় জমে মারা যায়। ওই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বুলগেরিয়ান পুলিশের সমালোচনা হয়। এর আগেও বিভিন্ন এনজিও অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো, মারধর এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ফোনকলের জবাব না দেওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। তবে বুলগেরিয়ান পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
logo-1-1740906910.png)