ইরানে হামলা হলে শুরু হবে ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ', খামেনির হুঁশিয়ারি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের রূপ নেবে। ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করতে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
খামেনি বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধ শুরু করতে চাই না এবং কোনো দেশে আক্রমণের ইচ্ছাও আমাদের নেই। তবে যদি কেউ ইরানি জাতির ওপর হামলা চালায় কিংবা হয়রানি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর পাল্টা কঠোর আঘাত হানা হবে।” তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প নিয়মিত যুদ্ধজাহাজের ভয় দেখাচ্ছেন, কিন্তু ইরানি জনগণ এসব হুমকিতে ভীত হবে না।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৬ হাজারের বেশি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। খামেনি এই বিক্ষোভকে অভ্যুত্থানচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, যুদ্ধের প্রচারের বিপরীতে আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, বড় কোনো সংঘাত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছে। তিনি বলেন, “দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কিনা। অন্যথায় কী ঘটে, তা দেখা যাবে।”
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি সম্প্রতি তেহরানে লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো যায়। অন্যদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি বাহিনী পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং শত্রু যদি কোনো ভুল করে, তবে তা শুধু ইরানের নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে সামরিক হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত এই দ্বৈত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
logo-1-1740906910.png)