যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেয়ে দেশছাড়া মানুষের সংখ্যা বেশি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাসে এক বড় মোড় এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো নেট অভিবাসন ঋণাত্মক হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসা মানুষের চেয়ে দেশ ছাড়ার সংখ্যা বেশি হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের পর এ ঘটনা আর কখনো ঘটেনি।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন বলছে, গত ছয় দশকে অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রে এক ধরনের বাবল তৈরি করেছিল। যেমন একসময় ডটকম বাবল বা হাউজিং বাবল দেখা গিয়েছিল, তেমনি অভিবাসনও দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে বাড়তে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ১৯৬৫ সালের আইন পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের পথ খুলে দেয়, যার ফলে চেইন মাইগ্রেশন শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বৈধভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছে।
অবৈধ অভিবাসনও ১৯৭০-এর দশক থেকে বাড়তে থাকে। সীমান্তে ধরা পড়া মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে একসময় বছরে এক মিলিয়নের বেশি হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ সীমান্তে আটক হয়।
কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নতুন প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাপক বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে ২০২৫ সালে অভিবাসনের প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগে। মার্কিন জনশুমারি ব্যুরো জানায়, ২০২৪ সালে নেট অভিবাসন ছিল ২.৭ মিলিয়ন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি তা কমে দাঁড়ায় ১.৩ মিলিয়নে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নেট অভিবাসন ঋণাত্মক হয়ে যায় মাইনাস ১০ হাজার থেকে মাইনাস ২ লাখ ৯৫ হাজার পর্যন্ত।
পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৫৩.৩ মিলিয়ন, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কিন্তু জুনে তা কমে দাঁড়ায় ৫১.৯ মিলিয়নে। এটি ছিল ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো অভিবাসীর সংখ্যা হ্রাস।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নীতির শিথিলতা, অবৈধ অভিবাসনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক চাপ বাবলকে ফুলিয়ে তুলেছিল। কিন্তু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বহিষ্কার এবং জনমতের পরিবর্তন বাবল ভেঙে দিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)