যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে লক্ষাধিক ভিসা বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এটি দেশটির ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসন দমন এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমও যাচাই করা হচ্ছে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী ভিসা এবং ২ হাজার ৫০০ বিশেষায়িত ভিসা রয়েছে, যেগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বাতিল করা হয়েছে। তারা বলেছে, “আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে আমরা দুর্বৃত্তদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া অব্যাহত রাখব।”
পররাষ্ট্র বিভাগের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে অবস্থান করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় এবার ভিসা বাতিলের হার ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি নাগরিকদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে, যা দ্রুত ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
এছাড়া বিদেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বা ওয়াশিংটনের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন আবেদনকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ভিসা ও গ্রিন কার্ডধারীরাও এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন প্রকাশ করলে অনেকেরই বহিষ্কারের ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ‘হামাসপন্থি’ কার্যকলাপ হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)