বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় উচ্চতায় ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। জাতি, ভৌগোলিক অবস্থান, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার মানের ভিন্নতার কারণে এ পার্থক্য তৈরি হয়। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সম্প্রতি ২০২৫ সালের গড় উচ্চতার তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি এবং নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, যা বর্তমানে বিশ্ব রেকর্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত জীবনধারণের ব্যবস্থা ও পুষ্টি মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে, আর নেদারল্যান্ডস তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
ডাচদের পরেই দীর্ঘতম জনসংখ্যার তালিকায় রয়েছে ইউরোপের বলকান ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল। মন্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট। এসব দেশে নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৬ থেকে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির মধ্যে। এছাড়া পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া, ইউক্রেন, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও লাটভিয়ার পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে খর্বকায় জনসংখ্যা পাওয়া যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে পূর্ব তিমুর, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট। এসব দেশের মানুষ সাধারণত পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।
বাংলাদেশও খর্বকায় জনসংখ্যার তালিকায় রয়েছে। এখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট। একই তালিকায় নেপাল, ইয়েমেন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারও রয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার নারীদের গড় উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। এ পরিসংখ্যান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবৈষম্যের চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
logo-1-1740906910.png)