তৃতীয় বিশ্ব থেকে অভিবাসন বন্ধের প্রভাব কী হবে যুক্তরাষ্ট্রে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে তথাকথিত ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো’ থেকে অভিবাসন আপাতত স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ নিয়ে প্রকাশ করেছে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
২৮ নভেম্বর ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর প্রশাসন অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেয়। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সব আশ্রয় আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, তারা আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার মানুষদের জন্য এটি বড় ধাক্কা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেননি কোন কোন দেশকে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ হিসেবে ধরা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ এ তালিকায় পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ ও পর্যালোচনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
এদিকে, অভিবাসন স্থগিতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিবার পুনর্মিলন, শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বা কাজের জন্য যাওয়া তরুণদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে অভিবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন বন্ধ হলে এসব খাতে শ্রম সংকট দেখা দিতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা দাবি করছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর থাকায় অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তাই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
logo-1-1740906910.png)