Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

লিবিয়া-গ্রিস রুটে বাড়ছে অনিয়মিত অভিবাসন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:১৫

লিবিয়া-গ্রিস রুটে বাড়ছে অনিয়মিত অভিবাসন

পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই রুটকে কেন্দ্র করে মানব পাচারকারী চক্র, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে পূর্ব লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তবরুক থেকে যাত্রা করা নৌকাগুলোর সংখ্যা বাড়ছে।

গ্রিসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ২০ অক্টোবরই ১৪টি নৌকায় ৭১০ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন। পরদিনও শত শত মানুষ একই পথে গ্রিসে প্রবেশ করেন। পাচারকারীরা এই যাত্রার জন্য জনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত আদায় করছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতালিমুখী প্রচলিত রুটে কঠোর নজরদারি বাড়ার পর পাচারকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন ছোট নৌকায় করে ক্রিটমুখী যাত্রা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানব পাচারবিষয়ক গবেষকদের মতে, লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সশস্ত্র সংঘাত মানব পাচারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশটিতে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘সংঘাতভিত্তিক অর্থনীতি’ বা কনফ্লিক্ট ইকোনমির সঙ্গে মানব পাচারের ব্যবসা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অস্ত্র, মাদক কিংবা পণ্য চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কগুলো একই অবকাঠামো ব্যবহার করে অভিবাসী পাচারও পরিচালনা করছে। ফলে মানব পাচার এখন কিছু এলাকায় বড় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে লিবিয়া কার্যত দুটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত। পশ্চিমাঞ্চলে জাতিসংঘ সমর্থিত প্রশাসন থাকলেও পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব রয়েছে। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পাচারচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়মিত অভিবাসন শুধু মানব পাচারের বিষয় নয়, এটি ধীরে ধীরে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। যারা অভিবাসনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করতে পারে, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে স্থানীয় শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আরো বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেরই বৈধ কাগজপত্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে তারা মানব পাচার, শোষণ এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

Logo