Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

বেলজিয়ামে কমছে অভিবাসী শিশুদের সুযোগ-সুবিধা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪

বেলজিয়ামে কমছে অভিবাসী শিশুদের সুযোগ-সুবিধা

বেলজিয়ামে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত ৫৬০টি আশ্রয়শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শরণার্থীবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ফেদাজিল। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশজুড়ে এই শ্রেণির শিশুদের জন্য থাকা মোট ২ হাজার ৫০০ আশ্রয়শয্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে যাবে।

২৩ অক্টোবর ফেদাজিল সিদ্ধান্তটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের আগমন কমে যাওয়ায় আশ্রয় সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না। বরং বিভিন্ন কেন্দ্রে শয্যার সংখ্যা কমিয়ে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন বাড়লে দ্রুত পুনরায় চালু করা যায়।

ফেদাজিলের দাবি, অতীতে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালু করতে বিপুল অর্থ ও জনবল বিনিয়োগ করতে হয়েছিল। পরে চাহিদা কমে গেলে সেসব কেন্দ্র বন্ধ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ হওয়া কিছু শয্যা পরিবার ও অন্যান্য আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহার করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মতে, অভিভাবকহীন শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সামগ্রিক আশ্রয়ব্যবস্থা এখনও তীব্র চাপে রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের সংকট অব্যাহত রয়েছে।

সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে জরুরি আশ্রয়ের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাই মাসে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটিই প্রত্যাখ্যাত হয়। আশ্রয় না পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে শত শত শিশুও ছিল, যাদের অনেকেই খুব অল্প বয়সী।

এদিকে ব্রাসেলসে জরুরি আশ্রয়শয্যা কমানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে আশ্রয়সুবিধা আরো কমানো হলে রাজধানীতে আবার অস্থায়ী তাঁবু ও শিবির গড়ে উঠতে পারে।

বেলরিফিউজিস জানিয়েছে, জরুরি আশ্রয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় ইতোমধ্যে এক হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে। সংস্থাটি অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত আমরান কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া কেন্দ্রটিতে ৬৬ জন তরুণকে আবাসন, শিক্ষা, সামাজিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া হতো। কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ জন কর্মীও চাকরি হারিয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আশ্রয়শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও বাস্তবে এটি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকলে মানবিক সংকট আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফেদাজিল বলছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আশ্রয়সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সংগঠনের মতে, বর্তমান চাহিদার বাস্তবতা বিবেচনায় আশ্রয়ব্যবস্থা সংকোচনের পরিবর্তে আরো টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন।

Logo