Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ক্রোয়েশিয়ায় এক দশকে ৪ লাখ মানুষের দেশত্যাগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯

ক্রোয়েশিয়ায় এক দশকে ৪ লাখ মানুষের দেশত্যাগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ক্রোয়েশিয়া থেকে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষ দেশত্যাগ করেছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্ধৃতি দিয়ে ক্রোয়েশীয় গণমাধ্যম এন ওয়ান এবং 'ক্রোয়েশিয়া উইক' জানিয়েছে, বিগত এক দশকে দেশটির প্রায় ২ লাখ ৮৭ হাজার নিজস্ব নাগরিক উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চ বেতন এবং ইউরোপের অন্যান্য উন্নত দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ক্রোয়েশিয়া ত্যাগ করেছেন। প্রবাসনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছিল ২০১৭ সালে, যখন এক বছরেই ৪৭ হাজার ৩৫২ জন দেশ ছাড়েন, যার মধ্যে ৪৫ হাজার ৩৬৭ জনই ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার মূল নাগরিক।

তবে এই বিশাল বহির্গমনের বিপরীতে বিগত কয়েক বছরে ক্রোয়েশিয়ার সামগ্রিক প্রবাসন ও অভিবাসন ভারসাম্যে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে দেশটিতে জনসংখ্যা চলে যাওয়ার তুলনায় নতুন অভিবাসী প্রবেশের হার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের শ্রমবাজার ও জনসংখ্যার বিন্যাসকে সম্পূর্ণ এক নতুন খাতের দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, সার্বিক অভিবাসন ভারসাম্য ইতিবাচক বা প্লাস হলেও ক্রোয়েশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক সংকট কিন্তু কেটে যায়নি। কারণ যারা দেশ ছেড়ে গিয়েছেন, তাদের একটি বিশাল অংশই ছিলেন কর্মক্ষম তরুণ ও তরুণী। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর শূন্যতা পূরণ করতে ক্রোয়েশিয়াকে এখন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার অন্যতম চালিকাশক্তি নির্মাণ খাত, পর্যটন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতেই বিদেশিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত ও ফিলিপাইন থেকে যাওয়া কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক ক্রোয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রম খাতের মূল ভিত্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে নিজস্ব নাগরিকরা ফেরত আসছেন নাকি কেবল বিদেশি অনিয়মিত বা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকরা সংখ্যা বৃদ্ধি করছেন, তা স্পষ্টভাবে বিচ্ছিন্ন করে মূল্যায়ন করা না হলে এই ইতিবাচক অভিবাসন ভারসাম্য দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের প্রকৃত সমাধান দিতে সক্ষম নয় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোপের অন্যান্য প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশগুলোর মতো ক্রোয়েশিয়াও এখন নিম্ন জন্মহার এবং দ্রুত প্রবীণ জনসংখ্যার চাপে ভুগছে। দেশের নিজস্ব দক্ষ মানবসম্পদ ধরে রাখা, প্রবাসে থাকা নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা এবং নতুন বিদেশি অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একীভূত করাই এখন জাগরেব (Zagreb) সরকারের মূল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো বিপুল শ্রমশক্তি উদ্বৃত্ত দেশের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে নতুন ও আইনি কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করলেও কর্মীদের সঠিক ভাষা শিক্ষা, সামাজিক প্রশিক্ষণ এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো পূর্বশর্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Logo