ইউরোপের বৃহত্তম একক ভিসা এলাকা সেনজেন অঞ্চলে কোনো প্রকার ভিসা ছাড়াই স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ঐতিহাসিক সুযোগ পেতে যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পাঁচ দেশের নাগরিকরা। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও কাতার। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য সেনজেন ভিসা ছাড়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কৌশলগত প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাউন্সিল।
তবে আন্তর্জাতিক ভিসা ছাড় সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম 'ভিসানিউজ'-এর প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই স্বাগতিক সিদ্ধান্তের অর্থ এখনই সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া নয়। ইইউর নিরাপত্তা শর্তাবলি পূরণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করার পরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। ফলে আইনি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই পাঁচ দেশের নাগরিকদের আগের নিয়মেই সেনজেন ভিসা নিয়ে ইউরোপে ভ্রমণ করতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল পাঁচ দেশের জন্য পৃথক পাঁচটি কূটনৈতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর আগে ৫ অক্টোবর ইইউ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে গঠিত স্থায়ী প্রতিনিধি কমিটি (কোরেপার) প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার কর্মপরিকল্পনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। পুরো প্রক্রিয়ায় ইইউ কাউন্সিল ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর কড়া গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত নথিপত্র বা পাসপোর্ট সুরক্ষা, জাতীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অনিয়মিত অভিবাসন ঝুঁকি এবং ইইউর সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই মূল্যায়নের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই ভিসামুক্ত ভ্রমণ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সেনজেন ভিসা অব্যাহতির এই উদ্যোগটি নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল ইউরোপীয় কমিশন প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েত ও কাতারের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণে ভিসা তুলে নেওয়ার একটি একক প্রস্তাব দিয়েছিল, যার আওতায় ৯০ দিন ভিসামুক্ত অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল। নতুন সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কুয়েত ও কাতারের সাথে সৌদি আরব, বাহরাইন ও ওমানকেও বৃহত্তর ভিসা ছাড় কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা হলো।
উল্লেখ্য, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকেরা ২০১৫ সালের ৬ মে স্বাক্ষরিত এক দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে আগে থেকেই সেনজেন অঞ্চলে কোনো ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা উপভোগ করছেন। এবার বাকি পাঁচ দেশের সাথে প্রক্রিয়া সফল হলে পুরো জিসিসি অঞ্চল ইউরোপে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। তবে এই সুবিধাটি জিসিসি দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার প্রস্তাবিত অভিন্ন পর্যটন ভিসার সাথে সম্পর্কিত নয়; সেটি বিদেশি পর্যটকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের জন্য তৈরি পৃথক পরিকল্পনা।
logo-1-1740906910.png)