ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাট: চরম আতঙ্কে কমিউনিটি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৩
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে চলমান চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, গত সপ্তাহের সহিংসতার সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল দোকান ও আর্থিক লেনদেনের আউটলেটগুলোতে হামলা চালায়। এতে কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু প্রবাসী উদ্যোক্তা।
প্যারিসে আক্রান্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হাসান জানান, তার ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল যন্ত্রাংশের দোকানটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো মূল্যের সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বিক্ষোভকারীরা। একই সাথে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত রিয়া (Ria) ও মানিগ্রামের (MoneyGram) মতো আর্থিক সেবাদাতা আউটলেট পরিচালনাকারী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স ব্যবসায়ীরাও নতুন করে হামলার গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের সহিংসতার জেরে কেবল প্যারিসেই ৪৫১টি দোকানে তাণ্ডব চালানো হয়েছে এবং পুরো ফ্রান্সজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, নিরাপত্তা নিয়ে সবাই চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে ফুড ডেলিভারি কাজে নিয়োজিত সাধারণ প্রবাসী কর্মীরা রাস্তায় চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন বৈধ কাগজপত্রহীন প্রবাসীরা, চারদিকে পুলিশ ও জেন্ডারমেরির কড়াকড়ি এবং কাগজপত্র তল্লাশির কারণে তাদের দৈনিক মজুরির কাজে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফ্রান্স সরকার ও ফ্রেঞ্চ কমার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের ইন্স্যুরেন্স দাবি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা, কর ও সামাজিক অবদানের অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের জন্য আংশিক বেকারত্বকালীন সরকারি ভাতা প্রদান। স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফরাসি সরকারের এসব আইনি ও আর্থিক সুবিধা পেতে দ্রুত বিমার কাগজপত্রসহ স্থানীয় চেম্বার অব কমার্সে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং শুক্রবার প্যারিসের ট্রাপ এলাকায় গোলাগুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামাল দিতে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্যারিস পুলিশ প্রশাসন বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলসহ বাস্তিল, রিপাবলিক, নাসিওঁ ও লে আল এলাকায় সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসরত সব বিদেশি নাগরিককে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হতে এবং সব সময় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভের সুযোগে লুট হওয়া কোনো চোরাই বা অবৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ ফরাসি আইন অনুযায়ী চোরাই পণ্য রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)