Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ফ্রান্সের আন্দোলনের পেছনে অভিবাসন ও ধর্ম: ডোনাল্ড ট্রাম্প

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১

ফ্রান্সের আন্দোলনের পেছনে অভিবাসন ও ধর্ম: ডোনাল্ড ট্রাম্প

উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাবাজেট বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। শত শত হাই স্কুলের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে চলা এই ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক বার্তায় দাবি করেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া লাগামহীন অভিবাসন ও ইসলামিক প্রভাবের ফল। ট্রাম্প লেখেন, এটি মোটেও স্কুল বা শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়; বরং একসময়ের মহান ফরাসি জাতিকে অস্থিতিশীল করে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী চেষ্টা। তবে নিজের এই ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, তীব্র শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক কর্মী ঘাটতি এবং বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া স্কুল ভবনের প্রতিবাদে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে রাজপথে নেমেছেন দেশটির তরুণ সমাজ। রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক তুরগো উচ্চবিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের এই রাজপথের দাবি সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ বিক্ষোভকারী রাজপথে নেমে উন্নত শিক্ষার দাবিসংবলিত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছেন। ফ্রান্সে চলমান এই আন্দোলনের প্রধান সুর শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য ও সরকারি বরাদ্দের অভাব হলেও তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভিন্ন রূপ নিতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক দাবি এখন পর্যন্ত উত্থাপন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনা করে ট্রাম্প ও তার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন' (মাগা) সমর্থকরা ফরাসি সহিংসতার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটে রিপাবলিকানরা যখন তীব্র চাপে রয়েছে, তখন পশ্চিমা সংস্কৃতির অবক্ষয়ের দোহাই দিয়ে অভিবাসনবিরোধী সুর চড়াই ট্রাম্পের মূল কৌশল। ট্রাম্পের ডানপন্থি মিত্র গ্লেন বেকও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন যে, ফরাসি দাঙ্গা মূলত পশ্চিমা সমাজ ভেঙে ফেলার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোরই এক গভীর ষড়যন্ত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো দেশের সংসদীয় কমিটিতে জানান, বিশ্বজুড়ে অবস্থিত ফরাসি কূটনৈতিক মিশনগুলো সত্য তথ্য তুলে ধরতে কাজ শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্য দেশের চাপিয়ে দেওয়া ভুল ও মিথ্যা রাজনৈতিক বয়ান ফ্রান্স কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ফরাসি সরকার নিজেদের আসল চিত্র বিশ্বমঞ্চে স্বগৌরবে তুলে ধরবে এবং নিজেদের অবস্থান কঠোরভাবে স্পষ্ট করবে।

Logo