১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নৌ নিরাপত্তায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা প্রধান অগ্রাধিকার হলেও বর্তমানে মানব পাচারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। Securing the Mediterranean: Human Trafficking Onboard Vessels and NATO’s Role and Response শীর্ষক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানব পাচার ও অভিবাসী শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরো বিস্তৃত ও মানবকেন্দ্রিক হতে হবে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিচালিত হয় এবং পশ্চিম ইউরোপে ব্যবহৃত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ ভূমধ্যসাগর হয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চল শুধু বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রেক্ষাপটে ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে। সংস্থাটির Operation Sea Guardian কর্মসূচি সমুদ্রপথে নজরদারি, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, তথ্য বিনিময় এবং অংশীদার দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এছাড়া FRONTEXসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, সমুদ্রপথে পাচারকারীরা প্রায়ই সংকটাপন্ন অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে তাদের শোষণের শিকার করা হতে পারে। ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে নয়, মানব নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লেখক মনে করেন, ন্যাটোর Women, Peace and Security (WPS) এজেন্ডা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় আরো জোরদার করলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ালে মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষণে উপসংহারে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সামরিক নজরদারি যথেষ্ট নয়। মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পাচারবিরোধী ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।
logo-1-1740906910.png)