জার্মানি পরিবার পুনর্মিলন নীতিতে নতুন সুযোগ ঘোষণা করেছে। এবার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বিদেশি নাগরিকরা তাদের বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়িকে জার্মানিতে নিয়ে আসতে পারবেন। তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়, কেবলমাত্র কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটধারীদের জন্য প্রযোজ্য।
সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যদি কারো কর্মভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট প্রথমবার ইস্যু হয়ে থাকে ২০২৪ সালের ১ মার্চের পর, তবে তিনি বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়িকে জার্মানিতে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ এই তারিখই মূল যোগ্যতার সীমারেখা। যাদের ভিসা বা পারমিট এর আগে ইস্যু হয়েছে, তারা এই সুবিধা পাবেন না।
এই নীতি কেবল কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ছাত্রভিসা, পর্যটন ভিসা বা অন্য কোনো অ-কর্মসংস্থান ভিসা এই সুযোগের আওতায় আসবে না। ফলে যারা চাকরি বা আয়ের উদ্দেশ্যে জার্মানিতে এসেছেন, তারাই মূলত এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অনেক অভিবাসী পরিবার থেকে দূরে থেকে কাজ করছেন। বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়িকে কাছে আনার সুযোগ তাদের পারিবারিক জীবনে স্থিতি আনবে। একই সঙ্গে জার্মান সরকারও দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে পারবে। পরিবার কাছে থাকলে কর্মীরা আরো স্থায়ীভাবে কাজ করতে আগ্রহী হবেন।
তবে যাদের ভিসা ২০২৪ সালের মার্চের আগে ইস্যু হয়েছে, তাদের জন্য এই পথ খোলা নেই। তারা চাইলে জার্মানির সাধারণ পরিবার পুনর্মিলন আইনের অন্য চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু নতুন নীতির সুবিধা তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতি জার্মানির বৃহত্তর কর্মী আকর্ষণ ও ধরে রাখার কৌশলের অংশ। দেশটি জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমবাজারের ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করছে। পরিবারকে কাছে আনার সুযোগ দিয়ে তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছে।
logo-1-1740906910.png)