Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

গভীর হতাশায় গ্রিসের সিনটিকি ক্যাম্পের অভিবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৭

গভীর হতাশায় গ্রিসের সিনটিকি ক্যাম্পের অভিবাসীরা

গ্রিসের সিনটিকি অভিবাসী ক্যাম্পকে সরকার ইউরোপের জন্য ‘মডেল’ হিসেবে প্রচার করেছিল। কিন্তু বাস্তবে ক্যাম্পটি এখন বিক্ষোভ ও অস্থিরতায় ভরপুর। এখানে আটক থাকা অভিবাসীরা বলছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে কেউ কেউ আত্মহত্যার কথা ভাবছেন।

গ্রিসের সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তৈরি এই ক্যাম্পে প্রায় ৪০০ জন মিশরীয় ও বাংলাদেশি অভিবাসী আটক রয়েছেন। মাসের পর মাস বন্দি অবস্থায় তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। পুলিশের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষ হচ্ছে।

গত মাসে অভিবাসীরা এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, “আমরা ক্লান্ত, খাবার প্রায় নেই, চারটি বাথরুমে শত শত মানুষ ভাগাভাগি করছি। অনেকেই আত্মহত্যার কথা ভাবছে।”

গ্রিসে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার এক শতাংশেরও কম। একই অবস্থা মিসর ও পাকিস্তানের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও। নতুন ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদনকারীদের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আটক থাকতে হয়। আবেদন বাতিল হলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

অভিবাসীরা কাজ করার অনুমতি চাইছেন, যাতে পরিবারকে সাহায্য করতে পারেন। তারা লিখেছেন, “আমরা ১২ মাসের বেশি সময় ধরে বন্দি। এখানে সবাই যেন টাইম বোম।”

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভে ক্যাম্পের চারটি সেক্টরের মধ্যে তিনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকের থাকার জায়গা নেই। বৃষ্টির দিনে সবাইকে আশ্রয় দেওয়া যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প বন্ধ করে মেরামতের দাবি তুলেছে। কেউ কেউ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

সিনটিকির মেয়র জর্জোস তাতসিওস বলেন, “এত মাস ধরে মানুষকে বন্দি রাখা হয়েছে। তারা পালালে কী করবে, কেউ জানে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২০ সালে ক্যাম্প খোলার সময় স্থানীয়রা বন্দুক হাতে গ্রামে পাহারা দিয়েছিল।

প্রোমাখোনাস গ্রামের প্রধান স্পাইরোস লিওনিদাস বলেন, ক্যাম্পের অবস্থানই অনুপযুক্ত। শীতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি, গ্রীষ্মে ৪৫ ডিগ্রি। এত মাস বন্দি অবস্থায় মানুষ টিকে থাকতে পারে না।

বিক্ষোভের পর ৫০ জনের বেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছে। আইনজীবী ইরাকলিস পেকিয়ারিদিস বলেন, কেউ কেউ ক্যাম্পে ফেরার চেয়ে জেলে যাওয়া পছন্দ করেছে।

অ্যাক্টিভিস্টরা ক্যাম্পকে “অমানবিক” বলে বর্ণনা করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য আফ্রোদিতি স্টাম্বুলি বলেন, “খাবার দিনে একবার দেওয়া হয়, কোনো ফ্রিজ নেই, কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা নেই। অনেকের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।”

তবু গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সিনটিকিকে ‘মডেল প্রকল্প’ বলেছেন। তার মতে, কঠিন পরিবেশ অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে সাহায্য করছে। তিনি দাবি করেছেন, এ বছর অবৈধ প্রবেশ ১৫ শতাংশ কমেছে।

কিন্তু স্থানীয়রা অস্বস্তি বোধ করছেন। প্রোমাখোনাস গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, এতদিন সমস্যা হয়নি, কিন্তু বারবার বিক্ষোভ ও পালানোর ঘটনা শুনে তারা আতঙ্কিত।

Logo