Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে আবাসন সংকট প্রকট; বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৪২

জার্মানিতে আবাসন সংকট প্রকট; বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

জার্মানিতে পড়াশোনার জন্য নতুন শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে সেপ্টেম্বর থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হওয়ার সময় বাসার চাহিদা আকাশছোঁয়া। এই সুযোগেই প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে হারাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

ঢাকার জামিলুর রহমান মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন বার্লিনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিসা পেলেও বাসা পাচ্ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি একটি বাসা দেখান এবং দুই মাসের অগ্রিম ভাড়া বাবদ ১২০০ ইউরো চান। জামিলুর দ্রুত টাকা পাঠান। কিন্তু বার্লিনে পৌঁছে দেখেন, বাসাটি আগেই অন্য ভাড়াটে দখল করে রেখেছেন। প্রতারক উধাও হয়ে গেছে, বিজ্ঞাপনের লিংকও মুছে গেছে।

চট্টগ্রামের শারমিন আক্তারও একই অভিজ্ঞতার শিকার। কটবুসে পড়াশোনা করতে যাওয়ার আগে ফেসবুকের একটি গ্রুপে সুন্দর স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের বিজ্ঞাপন দেখেন। ভাড়া কম হওয়ায় সন্দেহ হয়নি। চুক্তিপত্রের মতো একটি কাগজও পাঠানো হয় তাকে। অগ্রিম বাবদ পাঠান প্রায় সাড়ে আটশ ইউরো। টাকা পাঠানোর পরদিনই বন্ধ হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি। জার্মানিতে গিয়ে জানতে পারেন, ওই ঠিকানায় কোনো খালি ফ্ল্যাট নেই। বাধ্য হয়ে কিছুদিন একজন বাংলাদেশি পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয় তাকে।

ফ্রাঙ্কফুর্টের রাকিবুল হাসান হোয়াটসঅ্যাপে এক বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে একটি রুম ভাড়া নিতে রাজি হন। ভিডিওকলে বাসা দেখানো হলে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। জামানতের টাকা পাঠান তিনি। কিন্তু নির্ধারিত দিনে গিয়ে দেখেন, সেটি আসলে একটি অফিস ভবন। ফোন নম্বরও বন্ধ। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অফিসের সহায়তায় সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করতে হয় তাকে।

হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন বলেন, নতুন যারা জার্মানিতে আসছেন তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বাসা পাওয়া এখন সোনার হরিণ। প্রতারক চক্র এই সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা না পাঠানোই ভালো। জার্মানিতে এসে বা পরিচিত কারো মাধ্যমে টাকা দিলে প্রতারণার ঝুঁকি কমে।

Logo