পর্তুগাল ১১ সেপ্টেম্বর থেকে অভিবাসন আইন আরো কঠোর করেছে। নতুন আইন নং ৬২/২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান ও রেসিডেন্স পারমিটের নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম দ্য পর্তুগাল নিউজ এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এই আইন বিদেশিদের জন্য বৈধতা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে। আগে অনেকেই ভিসা ছাড়া দেশে প্রবেশ করে পরে বৈধতা চাইতে পারতেন। এখন আর সেই সুযোগ নেই। আইনটি প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার, স্ক্রিনিং, সীমান্ত প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে।
নতুন আইনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা লেভেল–৪ কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্স পারমিট পেতে পারেন। তবে শর্ত হলো, তাদের অবশ্যই বৈধ রেসিডেন্স ভিসা থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকতে হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকতে হবে।
২০২৪ সালে পর্তুগাল সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, যেখানে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা বিদেশিরা পরে বৈধতা চাইতে পারতেন। নতুন আইন সেই ধারাকে আরো কঠোর করেছে।
আইন নং ৬২/২০২৬ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। এগুলো আন্তর্জাতিক সুরক্ষা, অভ্যর্থনা এবং রেসিডেন্স ও কাজের জন্য একক অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে পর্তুগালের আইন এখন ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জটিলতার কারণে আরো ৩০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। এতে আবেদনকারীদের জন্য সময়সীমা স্পষ্ট হলো।
রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও জোসে সেগুরো আইনটি অনুমোদন করেছেন। সরকার বলছে, নতুন নিয়ম অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বৈধ শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে।
নতুন আইন কার্যকর হলে ভিসা ছাড়া প্রবেশকারীদের জন্য বৈধতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ থাকলেও সাধারণ অভিবাসীদের জন্য পথ আরো কঠিন হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, এতে অনেক পরিবার সমস্যায় পড়তে পারে।
logo-1-1740906910.png)